সিলেটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১২ মে, ২০২৫ ১০:১৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বর্তমানে 'লিচুর গ্রাম' নামে পরিচিত। টিলা বেষ্টিত এ অঞ্চলের গাছে-গাছে ঝুলছে রসালো ফল লিচু। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর লিচুর ফলন তুলনামূলক কম।
এই দুই উপজেলার লিচু বাগানগুলো এখন মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে শুধু পাকা লিচুর সমাহার। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর, গোদাবাড়ী, বড়্গলা, দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া,টেংরাটিলাসহ অসংখ্য গ্রামে রয়েছে এসব রসালো ফল লিচুর বাগান।
জানা যায়, শতাধিক বছর পূর্বে গৌরীপুরের জমিদারের কাছারিবাড়ী ছিল মানিকপুর গ্রামে। বর্তমানে ওই বাড়িটিতে মানিকপুর জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। জমিদারের নায়েব হরিপদ রায় ও শান্তিপদ রায় কাছারি বাড়িতে কয়েকটি লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন।
বিশাল আকারের এসব লিচু গাছ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে কাছারি বাড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কাছারি বাড়ি থেকে লিচু গাছের চারা নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে দু’একটি করে লিচু গাছ লাগিয়েছিলেন বিভিন্ন গ্রামের লোকজন।
এদিকে লিচুর ভালো ফলন এবং বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় লিচু চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে পড়েন গ্রামের অনেক লোকজন। একইসঙ্গে বাণিজ্যিকভাবেও শুরু করেন লিচুর উৎপাদন।
২০১৩ সালে বাগানীরা কয়েক লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এরপর থেকেই লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পায় মানিকপুর। একপর্যায়ে আশেপাশের গ্রামগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় লিচুর চাষ।
তবে, লিচুর গ্রাম নামে পরিচিত মানিকপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সঠিক সময়ে লিচু বাজারজাত করণে ব্যর্থ হচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
কিন্তু উৎপাদিত লিচু স্বল্প মূল্যে বিক্রি এবং সময়মতো বাজারজাত না করায় আশানুরূপ লাভের দেখা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষিদের।
মানিকপুর গ্রামের চাষি হামিদ বাঙ্গালি জানান, প্রতিবছর যথা সময়ে শ্রম দিয়ে ভালোভবে গছের পরিচর্যা করে ফলন উপযোগী করে তোলেন তিনি। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য উৎপাদিত লিচু বাজার মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি করতে হয় তাঁকে। ফলে লিচু চাষে তেমন লাভের মুখ দেখতে পান না তিনি।
তিনি জানান, যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা যায় তবে এলাকার অন্যান্য চাষিরা লিচু চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, লিচু চাষীদের সবসময় ভালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে চাষীরা ভালো বাজার মূল্য পাচ্ছেন। টিলা বেষ্টিত এ অঞ্চল লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানে লিচুর বাগান করতে আগ্রহীদের সরকারি সহযোগিতা করা হচ্ছে।
লিচু, লিচু বাগান, ছাতক, দোয়ারাবাজার, নিত্যপণ্য