সিলেটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১:৪২ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের খুজারগাঁও করচ বাগান শীত এলেই হয়ে ওঠে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে উড়ে আসা হাজারো অতিথি পাখির ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচিরে এখন মুখর পুরো বাগান। প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা এই করচ বাগান প্রতি বছরই শীতের শুরুতে রূপ নেয় পাখির মিলনমেলায়।
গাছের ডালে ডালে দেখা যায় সাদা বক, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির রঙিন পাখি। বিকেলের গোধূলি আলোয় যখন দল বেঁধে পাখিরা আকাশে উড়ে যায়, তখন বাগানজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য দৃশ্য। এই দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী।
তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই রয়েছে শঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ব্যক্তি ফাঁদ পেতে কিংবা বিষটোপ ব্যবহার করে অতিথি পাখি শিকার করছেন। এতে আতঙ্কে অনেক সময় পাখিরা বাগান ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখছি শীত এলেই এখানে পাখি আসে। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ গোপনে পাখি শিকার করে এই পরিবেশ নষ্ট করছে।’
আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘পাখি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কিন্তু শিকারিদের কারণে পাখিরা নিরাপদ বোধ করে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দরকার।’
পাখি শিকার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বাগানের প্রবেশপথে সতর্কতামূলক নোটিশ টাঙিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পরিযায়ী ও তফসিলভুক্ত পাখি শিকার বা কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা, পুনরাবৃত্তিতে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘পাখি শিকারের বিরুদ্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, পরিযায়ী পাখি, খুজারগাঁও, করচ বাগান