আবারও ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
ওসমানীনগরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিনই কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো উপজেলায় নেমে আসে অন্ধকার। এর সঙ্গে তীব্র গরমে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি সেবার ঘাটতিও বেড়েছে কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে। পল্লী বিদ্যুতের সিস্টেম সংস্কার ও আরইবির শোষণ-নিপীড়নের প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে অফিসের ৭৭ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৬ জন একযোগে ছুটিতে গেছেন। যারা আছেন, তারাও নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
তাজপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আশফাক আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ডিগ্রি ৩য় বর্ষে পড়ি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আমার ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু কদিন ধরে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছি না।
অন্ধকারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। হাসপাতালে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। গ্রামীণ মানুষ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আরও বেশি বিপাকে পড়েছেন।
কয়েকজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিয়মিত বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ অফিসে কাউকে পাওয়া যায় না। সমস্যার কথা বলারও কেউ নেই।
এই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অভিযোগ জানাচ্ছেন। ফেসবুকের স্থানীয় গ্রুপগুলোতে লোডশেডিং নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। অনেকে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বহীনতাকে ‘গণছুটি সংস্কৃতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গোয়ালাবাজার আদর্শ সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আব্দুল জলিল জিলু বলেন, একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে কর্মচারীদের অনুপস্থিতি—দুটো মিলে ওসমানীনগরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নাইমুল হাসান বলেন, বিদ্যুতের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে গণছুটিতে গেছেন। ফলে লোকবল সীমিত থাকায় লাইনে ফল্ট হলে সমাধান করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
ওসমানীনগর, সিলেট, লোডশেডিং, ভোগান্তি