আবারও ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:১১ অপরাহ্ন
জমিয়ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহসভাপতি ও অধ্যক্ষ মাওলানা মুশতাক গাজীনগরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
সোমবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জগন্নাথপুর পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (মুফতি ওয়াক্কাস) ১২ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম। তিনি দাবি করেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ফারুক গ্রুপের হাম্মাদ গাজীনগরীর সঙ্গে মাওলানা মুশতাক গাজীনগরীর দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণেই এ ঘটনার সঙ্গে হাম্মাদ ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁর সন্দেহ।
তালহা আলম বলেন, “মুশতাক ভাইয়ের মাধ্যমে কয়েক দিন আগে হাম্মাদ গাজীনগরী ফেসবুকে সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপর থেকেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। এখন এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। কোমলমতি ছাত্রদের দিয়ে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
এদিকে সোমবার ভোরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও তালহা আলমের অনুসারী এম আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে দিরাই থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে নিহত মাওলানা মুশতাক গাজীনগরী খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী হাম্মাদ গাজীনগরীর চাচাতো ভাই। তাঁর মৃত্যুর পর হাম্মাদ রাজপথে নেমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তালহা আলম আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এলাকায় আছি, আমেরিকায় যাচ্ছি না। প্রয়োজনে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আমি আইনি লড়াই করব। তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখি।” তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানান।
গত বুধবার রাতে নিখোঁজ হন মাওলানা মুশতাক গাজীনগরী। তাঁর স্ত্রী রুবি বেগম শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫১ মিনিটে সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তখন তিনি বলেছিলেন, “এক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরছি।” এটাই ছিল তাঁদের শেষ কথা।
শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের পুরাতন সুরমা নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাত চার–পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল হাফিজের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।