সিলেটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১০:০০ অপরাহ্ন
সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জসহ ৬টি পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তারা এই সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ রাখে কঠোর নজরদারিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।
সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেট
"সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো নিয়ে যে লুকোচুরি চলছে তা কোনভাবেই সঠিক নয়। এই অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতি যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয় তাহলে কোয়ারি ইজারা পদ্ধতি বাতিল থাকা উচিত। দেরিতে হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।"
কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)
ও সাবেক সভাপতি, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি
"ইসিএ এলাকার ইজারা স্থগিতে সাধুবাদ জানানোর কিছু নেই কারণ ইসিএ আগেই ঘোষিত ছিল, আর ইসিএ ঘোষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইজারা দেয়া যাবে না। সার্বিকভাবে সরকারের পরিবেশবান্ধব এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে এক্ষেত্রে যারা সরাসরি কর্মহীন হতে পারেন, সরকারের উচিত স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের জন্য দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।"
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাবিপ্রবি
"পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, তার বিনিময়ে যে প্রফিট আসছে তা সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে না। এখানে কিছু অসৎ অসাধু ব্যবসায়ীরা আছে যারা পাথর উত্তোলন করে জমি, ঘরবাড়ি, নদী অববাহিকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সাথে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট। পানি, মাটি, বায়ুদূষণে সার্বিক পরিবেশগত এবং প্রতিবেশগত হুমকির মুখে ছিল, তা থেকে হয়তো পরিত্রাণ পাবো।"
সদস্য সচিব, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট
"দীর্ঘ ষোল বছরের পরিবেশ বিধ্বংসী লুটপাট শেষে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জন প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনে পাথর লুটের নামে প্রকৃতি বিনাশী ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চিরতরে বন্ধ হবে। প্রত্যাশা ছিল প্রকৃতি বিনাশী অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন নির্মোহভাবে আইনের প্রয়োগ করে যাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য নানামুখী চাপে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি খুলে দেয়। ফলে জাফলং, ভোলাগঞ্জ, উতমাছড়া সহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের নামে লুটপাটের পথ সহজ হয়ে যায়।"
"আজ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। একজন পরিবেশকর্মী হিসেবে এ খবরে আপাতত স্বস্তি অনুভব করছি। তবে পাথর লুটপাটের নামে শত সহস্র কোটি টাকার যে বাণিজ্য হয় তা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি না থাকলে উত্তোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত কেতাবের গরু হয়েই থাকবে।"
বিভাগীয় সমন্বয়ক, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সিলেট
"দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি গেজেট হিসেবে প্রকাশ করতে হবে এবং অবৈধ উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়াও জাফলং, বিছানাকান্দি এবং ভোলাগঞ্জকে গেজেটভুক্ত পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।”
“দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলনের ফলে যেসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ আদায়পূর্বক সেসব এলাকা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, কেবলমাত্র স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দাদের পর্যটন সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া উচিত। কারণ আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি যে পাথর উত্তোলনের কাজে যারা সংশ্লিষ্ট, তারা বেশিরভাগই অন্য এলাকা থেকে আগত মৌসুমী শ্রমিক।”
সিলেট, পাথর কোয়ারি, সচেতন মহল, পরিবেশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা