তাহিরপুরে মাদকসহ যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৫ ৬:৪৭ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হঠাৎ করেই চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হাওরবেষ্টিত এলাকাবাসী। রাত হলেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা দিচ্ছে চোরের তাণ্ডব। প্রতিনিয়তই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিগত দুই মাসে উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০টির মতো চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই অভিযোগ-ডায়েরির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এদিকে, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, কৃষকের গরু, মাছ, নৌকা, এমনকি ঘরের আসবাবপত্র কিছুই বাদ পড়ছে না চোরের নিশানা থেকে। এমনকি ছোটখাটো দোকানপাটও নিরাপদ নয়।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী ফুল মিয়ার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, চোরেরা তার ঘর থেকে নগদ সাত লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দুটি বড় ব্যাটারিসহ প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে, ৫ জুলাই মেধা গ্রামের আহাদ নূর মিয়ার একটি বড় সেচ পাম্প চুরি হয়। হাতেনাতে এক চোর আটক হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গেল ৮ জুলাই উপজেলার কাশীপুর গ্রামের মনির মিয়ার বাড়ি থেকে চারটি গরু, পরদিন একই গ্রামের মামুন মিয়ার দুটি মেশিন ও একটি নৌকা এবং সর্বশেষ ১৪ জুলাই মনুয়া গ্রামের আবু তাহেরের ঘর থেকে তার ধান ও গরু বিক্রির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়।
এদিকে চুরি হওয়া গরুর মালিকদের অধিকাংশই দিনমজুর ও ঋণগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতির ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে শাল্লার সচেতন নাগরিক আনিসুল হক চৌধুরী মুন বলেন, 'হঠাৎ করে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয়। নিজের জান এবং মাল নিয়ে আতঙ্কে আছে হাওর পাড়ের মানুষ। তবে পুলিশের নিরবতার কারনে চুরি আরও বেড়ে চলছে।'
তিনি বলেন, 'পেশাদার চুরের পাশাপাশি অনেকর কাজ না থাকার কারনে চুরির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে।' এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। চুরির বিষয়টি কঠোরভাবে দেখছে পুলিশ। এ ব্যাপারে আইনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
শাল্লা চুরির ঘটনা,সুনামগঞ্জ হাওর এলাকায় চুরি,হাওরবাসীর নিরাপত্তা সংকট