০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনিয়ম-দুর্নীতি

জগন্নাথপুরে ‘ভূয়া ভাউচারে’ বিল উত্তোলনের চেষ্টা, ৯ প্রধান শিক্ষককে শোকজ

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৪ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ না করেই ‘ভূয়া ভাউচার’ দাখিল করে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।


গত ৩ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম স্বাক্ষরিত এসব নোটিশ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। নোটিশে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষা অফিসে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো—আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য মোট ১২ লাখ টাকার বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায়, যা দিয়ে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। 


কিন্তু কোনো প্রকার সংস্কার বা মেরামত কাজ না করেই শিক্ষা অফিসে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের জন্য প্রধান শিক্ষকেরা ভূয়া ভাউচার জমা দেন বলে জানায় শিক্ষা প্রশাসন। পরে বিষয়টি তদারকি করতে গিয়ে অনিয়মের তথ্য পায় শিক্ষা অফিস। 


তবে শিক্ষা অফিসের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা। কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস বলেন, ‘আমি স্কুলে কাজ করিয়েছি, বাউচার জমা দিয়েছি। উল্টো শিক্ষা অফিসার স্যার আমাদেরকে শোকজ করেছেন।’ 


মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজ্জন বর্মন বলেন, ‘কাজ করার পর ভাউচার দিয়েছি। এখন আমাদেরকে শোকজ করা হয়েছে।’


এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কাজ না করে ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে এসব অনিয়ম বেরিয়ে আসে।’


তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


শেয়ার করুনঃ

অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন

প্রধান শিক্ষক, ভূয়া ভাউচার, জগন্নাথপুর, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বিল উত্তোলন, শোকজ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ