নগরীতে হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: সিসিক প্রশাসক
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৪৩ অপরাহ্ন
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলে হবে না; খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নগরীতে নাগরিকদের জন্য খোলা জায়গা, পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
সিসিক প্রশাসক বলেন, আমরা সিলেটে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছি। এ বিষয়ে সিলেটের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা চাই, নগরবাসী যেন সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, দেশে ডায়াবেটিসের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একসময় ধারণা ছিল, মূলত বয়স্করাই এ রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই ডায়াবেটিস দেখা যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও জেনেটিকসহ বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে।
ডায়াবেটিসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দিতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমিও একজন ডায়াবেটিস রোগী। আমিও চেষ্টা করি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে অনেক সময় আমারও রক্তের শর্করা বেড়ে যায়। তারপরও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।”
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতায় সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, তিনি নিজেও ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও বারডেম হাসপাতালের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অধ্যাপক আজাদ খান তাকে এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। সিলেটে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশে সিটি করপোরেশন থাকবে বলেও জানান তিনি।
রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও রোটারিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন আরও ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান পিপি রুহুল আলম খান পিএইচএফের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি মো. সিদ্দিকুর রহমান পিএইচএফ, কো-অর্ডিনেটর (অর্থ) রোটারিয়ান পিপি বিকাশ কান্তি দাস পিএইচএফ, পোলিও প্লাস কমিটির সদস্য রোটারিয়ান পিপি মো. আব্দুল মুকিত আরএফএসএম, ক্লাব সদস্য রোটারিয়ান পিপি জিয়াউল হক এমপিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি এম এ রহিম আরএফএসএম, রোটারিয়ান পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি মো. আফসার আহমেদ চৌধুরী পিএইচএফ, রোটারিয়ান আইপিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম সুমন আরএফএসএম, রোটারিয়ান আহমেদ রশীদ চৌধুরী আরএফএসএম, রোটারিয়ান মনসুর আহমেদ পিএইচএফ এবং সিলেট ডায়াবেটিস হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দন।
এ সময় সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিসিক প্রশাসক, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ডায়াবেটিস, শারীরিক পরিশ্রম, পার্ক