৩০ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাস-ঐতিহ্য / ঐতিহ্য

হবিগঞ্জে জাতীয় চার নেতার ছবি সরিয়ে বলা হলো এগুলো ‘অপ্রাসঙ্গিক’

প্রকাশঃ ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধের কাছে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ছিল জাতীয় চার নেতার মুরাল। প্রায় একমাস আগে সেই ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্থাপনা থেকে এভাবে ছবি সরিয়ে দেওয়া তাদের জন্য কষ্টের। তারা ঘটনার তদন্ত ও ছবিগুলো পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুরের এই মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু একটি স্থাপনা নয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিরও একটি অংশ। ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধের কাছেই চত্বরটির অবস্থান। সেখানে বেশ আগে জাতীয় চার নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরালাকৃতির ছবি স্থাপন করা হয়েছিল।


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চত্বরটিতে থাকা ওই ছবিগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, মাধবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের নির্দেশে ছবিগুলো ‘অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে অপসারণ করা হয়।


ছবি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। তৎকালীন ইউএনও বদলি হওয়ার পর তারা এখন বিষয়টির তদন্ত ও ছবিগুলো পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদের কাছে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের ওই ছবিগুলোর আলাদা গুরুত্ব ছিল। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা একটি স্থানে জাতীয় চার নেতার ছবি থাকা স্বাভাবিক বিষয়। দীর্ঘদিন পর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া সেগুলো সরিয়ে দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ।


আব্দুস শহীদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জাতীয় চার নেতার ছবি ছিল। কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ছবিগুলো অপসারণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ বলছেন, তারা যুদ্ধের সময়কার স্মৃতি ও ইতিহাসকে সামনে রেখে এসব স্থাপনার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করেছেন। ফলে সেখানে থাকা কোনো স্মারক বা ছবি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তাদের কাছে নিছক একটি স্থাপনা পরিবর্তনের বিষয় নয়।


এদিকে ছবি অপসারণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. অলিদ মিয়া এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।


ওই পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ছবিগুলো কি খুব সমস্যা করছিল এই সরকারকে?’


অলিদ মিয়া তার পোস্টে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় চার নেতার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ঐতিহাসিক নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কোনো সময়ের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মৃতি মুছে ফেলার প্রবণতা তৈরি হওয়া উচিত নয়।


ছবি অপসারণের কারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে মাধবপুরের বর্তমান ইউএনও মেহেদী হাসানের সঙ্গে শনিবার সিলেট ভয়েসের পক্ষ থেকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলিয়াপাড়া এলাকার একটি স্মৃতিচিহ্ন থেকে জাতীয় চার নেতার ছবি অপসারণের বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এছাড়া এ ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অপসারণ করা ছবিগুলো আগের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে।


শেয়ার করুনঃ

ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে আরো পড়ুন

মাধবপুর, তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, জাতীয় চার নেতা, ইউএনও

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ