
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে বিভিন্নভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।’
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটবাসীর যে অর্পিত দায়িত্ব, যেটা আপনারা জানেন, আমরা একটা কমিটি করেছিলাম স্থানীয় এমপি, মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাহেবের নেতৃত্বে। এই কমিটিতে আমরাও ছিলাম, প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনারজিসহ সকলেই ছিলেন। এইভাবেই আমরা এখনো পর্যন্ত করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা এই বিষয়টা চূড়ান্ত পর্যায়ে বিভিন্নভাবে গত এক মাসে “ওয়ার্কআউট” করেছি এবং আমরা একটা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। অচিরেই আমরা সেই নীতিমালাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করব।’
সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা হয়তো মনে করতে পারেন যে, 'ইন্ডিফিনিট পিরিয়ড'-এর জন্য মনে হয় এইভাবে জেলা প্রশাসন গুনার কাজটুকু করবে। এই যে নীতিমালা আমরা করেছি, সেই নীতিমালা আপনারা জানলে অন্ততপক্ষে সিলেটে যারা বসবাসকারী, শাহজালাল (রহ.) এ মাজার সংক্রান্ত বিষয়ে যারা খবর রাখেন, তারা খুশি হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটের বাইরে যারা প্রবাসে অথবা পুরো বাংলাদেশে শাহজালাল (রহ.) দরগার এই দান বাক্সের খবর যারা রাখেন, তারা সকলেই জানতে পারবেন। অচিরেই আমরা সেটা জানাবো।’
এর আগে, শনিবার সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের ৫টি দানবাক্স ও ৩টি ডেগের অর্থ গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে এ দফায় নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ২ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১ ভরি ২ আনা রুপাও পাওয়া যায়। তৃতীয় দফায় আগের দুইবারের তুলনায় বেশি অর্থ মিলেছে।
দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮, পাকিস্তানি রুপি ৬০, সৌদি রিয়াল ৭০, মালয়েশীয় রিঙ্গিত ৮৩, মার্কিন ডলার ৪, নেপালি রুপি ১০০, ওমানি মুদ্রা ১ হাজার বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০, তুর্কি লিরা ৯০, ভিয়েতনামের ডং ১ হাজার, জাপানি ইয়েন ১ হাজার, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০, মিসরীয় পাউন্ড ১০, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১।
এর আগে, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে ওই গণনা করা হয়েছিল। চার দিন পর গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। পরে এসব অর্থ সোনালী ব্যাংকে খোলা নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।
এর ১৯ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয় মাজারের দানবাক্স ও ডেগ। দ্বিতীয় দফার গণনা শেষে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। প্রশাসন ও মাজার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই অর্থ গণনা করা হয়।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
দানবাক্স, টাকা গণনা, নীতিমালা, হজরত শাহজালাল (রহ.), মাজার, সিলেট সিটি করপোরেশন


