শমশেরনগর-তারাপাশা সড়কে সংস্কারের এক মাসেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২০ অপরাহ্ন
সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরদিনই নির্দেশনা অমান্য করে আবারও ফুটপাত দখলের অভিযোগ ওঠেছে এক ফল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের পরদিনই স্থাপনা সরানোর নির্দেশনা না মেনে শাহীন মিয়া নামের ওই ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্থাপনা না সরিয়ে একই জায়গায় আবার দোকান বসিয়ে ব্যবসা করতে দেখা গেছে ওই ব্যবসায়ীকে।
এর আগে, গতকাল বুধবার গোয়ালাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ফল ব্যবসায়ী শাহীনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে তিনি প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে একদিন যেতে না যেতেই পুনরায় একই স্থানে ব্যবসা শুরু করেন শাহীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করে শাহীন মিয়াকে ভাড়া দিয়েছেন খছরু নামের এক ব্যক্তি। ওই স্থাপনায় ব্যবসা করার বিনিময়ে শাহীন মিয়ার কাছ থেকে মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া নেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডসহ সড়কের বিভিন্ন অংশ দখলের অভিযোগে বুধবার দুপুরে অভিযান চালায় ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ফল জব্দ এবং মোট ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দ করা ফল স্থানীয় দুটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে গোয়ালাবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষে সংবাদ সংগ্রহ করে উপজেলা প্রেসক্লাবে ফেরার পথে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ফুটপাত দখলকারী ১৫ থেকে ২০ জন ফল ব্যবসায়ী এ হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় ওসমানীনগর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত থেকে কিছু ব্যবসায়ী সরে গেলেও টমটম ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখল থেকে মহাসড়কের একটি অংশ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, বাজারের অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য যা করা প্রয়োজন, পরবর্তীতে আমরা তা করব।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, আমরা থ্রি-হুইলার, সিএনজি ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।
অভিযানের পর আবার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন, ‘অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের পর আবার তারা বসে যায়। এ কারণে আমরা একবারে ক্লিন করে আসছি। আমি হাইওয়ে পুলিশ ও বাজার কমিটির সভাপতিকে বলে এসেছি, যাতে এসব দোকান আর বসতে না পারে।’
তিনি বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। এখানে তদবিরের কোনো বিষয় নেই। কেউ যদি অবৈধ দখলদার হয়, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। তারপরও আমরা তাদের সতর্ক করি, মাইকিং করি। এরপরও যদি কেউ না শোনে, তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করতেই হবে।”
ফুটপাত, দখল, ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা, ব্যবসায়ী, ওসমানীনগর