চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৮ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ন
সিলেট মহানগরের রায়নগর আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিতালী আবাসিক এলাকা সমাজকল্যাণ সমিতি ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় নগরের মানুষ আতঙ্কিত ও বিচলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পরে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আজকের এই মানববন্ধন কেউ ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়। এই হত্যাকাণ্ডের শিকার তিনজনের পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে আর কারও যোগসাজশ আছে কি না, তা তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, ‘এই ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার পরে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।’
মিতালী আবাসিক এলাকা সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম নাজু বলেন, মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। তার দাবি, একজন রংমিস্ত্রি একাই এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এত কম সময়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে পেরেছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
নাজমুল ইসলাম নাজু বলেন, ‘এখানে সম্পত্তিগত বিষয় নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা আছে। আমরা মনে করি, সেটাও তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হোক। উনার সম্পত্তির দলিল এবং মামলার কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে সেগুলোও উদ্ধার করা হোক।’
মানববন্ধনে মিতালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানতে চান। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বাইরে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সিলেটের মতো শান্তিপ্রিয় নগরে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে মিতালী আবাসিক এলাকা সমাজকল্যাণ সমিতি ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে মিতালী জামে মসজিদের ইমামের পরিচালনায় নিহত তিনজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
সিলেট ট্রিপল মার্ডার, রায়নগর হত্যাকাণ্ড, মিতালী আবাসিক এলাকা, আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম, তাহমিনা হত্যা, সিলেট হত্যাকাণ্ড, ট্রিপল হত্যা, মানববন্ধন, দ্রুত বিচার, সর্বোচ্চ শাস্তি