সিলেটে শহীদদের প্রতি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের শ্রদ্ধা
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ৫ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারাদেশের মতো সিলেটের গোলাপগঞ্জেও বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা পৌর শহরের চৌমুহনীতে জড়ো হয়ে বিজয় মিছিল করেন, মিষ্টি বিতরণ করেন এবং উদ্যাপনে অংশ নেন।
তবে এই বিজয়ের ঠিক আগের দিন, ৪ আগস্ট, গোলাপগঞ্জে ঘটে যায় রক্তাক্ত এক অধ্যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের, বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন আন্দোলনকারী। পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গোলাপগঞ্জের আরও একজন। সব মিলিয়ে ওই দুই দিনে প্রাণ হারান উপজেলার সাতজন।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, এখনো তারা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। তদন্ত এগোলেও কোনো মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হয়নি। ফলে স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি বিচারহীনতার হতাশাও বহন করে চলেছেন তারা।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চারজন। একই সময়ে পৌর শহরের কদমতলী এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরও দুজন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। সংঘর্ষে পুরো উপজেলা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গোলাপগঞ্জ উপজেলার আরেক বাসিন্দা।
জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিহত সাতজন হলেন, নিশ্চিন্ত গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম, আমুড়া ইউনিয়নের শিলঘাট গ্রামের কয়ছর আহমদের ছেলে সানি আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট গ্রামের মকবুল আলীর ছেলে তাজ উদ্দীন, একই ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে মিনহাজ উদ্দিন, ঘোষগাঁও গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন, রায়গড় গ্রামের ছুরাই মিয়ার ছেলে জয় আহমদ এবং কানিশাইল গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম পাভেল।
শহীদ গৌছ উদ্দিনের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ভাই গৌছ উদ্দিন শহীদ হয়েছে। তাকে তো আর আমরা ফিরে পাব না। আমার ভাইসহ যারা মারা গেছেন, যারা আহত হয়েছেন আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পাইনি।”
শহীদ কামরুল ইসলাম পাভেলের বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। মামলারও তেমন অগ্রগতি নেই। আমার ছেলে ও অন্য যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে সরকার যেন বিচার নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালের মতো রক্তক্ষয়ী দিন আর কখনো বাংলাদেশে না আসে।’
শহীদ নাজমুল ইসলামের ভাই ছামিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চৌধুরীর নির্দেশে বিজিবির গুলিতে আমার ভাই মারা যান। আমার ভাইকে কোনো সাধারণ মানুষ হত্যা করেনি। সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তার স্ত্রী ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আমার মতে, ওই মামলার সব আসামিই নির্দোষ।’
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় দুটি, সিআইডিতে তিনটি এবং পিবিআইতে দুটি হত্যা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সবগুলো মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি।’
গোলাপগঞ্জ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই আন্দোলন, সাত শহীদ, গোলাপগঞ্জ হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনা, ৫ আগস্ট, ৪ আগস্ট, সিলেট, বিজিবির গুলি