১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৩ জুন, ২০২৫ ৯:১৯ অপরাহ্ন
প্রকৃতিকন্যা সিলেট দেশের পর্যটন নগরীগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর বিভিন্ন উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান সিলেটে । প্রতিবারের ন্যায় এবারও পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত ছিল পর্যটন নগরী সিলেট।
কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিলেটের সবকটি পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থা বেহাল। পানিতে তলিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র। এরই মধ্যে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তাছাড়াও সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের অবস্থাও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতে বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের ঢল নেমে যেকোনো সময় তলিয়ে যায়। পরে আবার ঢল নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ অবস্থায় পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নয় জাফলংও।
এ পরিস্থিতিতে এবার পর্যটকদের খরা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই অবস্থা তৈরি হয় তাহলে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ধীর গতিতে বেড়ে চলেছে নদ-নদীর পানি। একইসঙ্গে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা প্রশাসন বলে, সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘জাফলং পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। জাফলংয়ে উঁচু থেকে পানি নেমে নিচের দিকে ধাবিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি তেমন স্থায়ী হয় না। ফলে এখনও পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে বৃষ্টি হলে এমনিতেই তুলনামূলক কম আসেন পর্যটকরা।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দৈনিক গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক জাফলং ভ্রমণ করতে আসেন। যা সব মিলিয়ে প্রায় ৩-৪ লাখ গিয়ে শেষ হয়। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবারও ঈদে পর্যটকদের ভিড়ে জাফলং রঙিন হয়ে উঠবে।’
এদিকে এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এবারের ঈদেও অন্যান্য বছরের ন্যায় পর্যটকদের সংখ্যা অপরিবর্তীত থাকবে বলে ধারণা করছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
দরগাগেইটের হোটেল আল আরবের ম্যানেজার হুমাইয়ুন কবির নবীন জানান, আশা করা যায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারের ঈদেও সিলেটে পর্যটকদের ভিড় হবে। ছুটি উপলক্ষে অনেক পর্যটক সিলেটে ঘুরতে আসার কথা তাদের জানিয়েছেন।'
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ সিলেট ভয়েসকে বলেন, 'ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের কথা ভেবে সিলেটের হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ সংগঠিত না হলে আশাকরি এবারের ঈদেও পর্যটকরা সিলেটে ঘুরতে আসবেন।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে যেহেতু পরিবার নিয়ে বাহিরে ঘুরতে যাওয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে তাই অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় ঝমার সম্ভাবনা বেশি। তাই সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রেগুলোতেও পর্যটকের সমাগম বাড়বে বলে আশাকরি। তাছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশও পর্যটক নিরাপত্তায় সবসময় কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।'
সিলেট ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিলেট ভয়েসকে বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপত্তার সুবিধার্থে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভয়াবহ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও পর্যটনকেন্দ্রগুলো জনসমাগমে রূপ নিবে।'
তাছাড়া পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিলেট পর্যটন, জাফলং ভ্রমণ, সাদাপাথর নিষেধাজ্ঞা, সিলেট বন্যা পরিস্থিতি, ঈদে ভ্রমণ