রাতারগুলে অর্ধশতাধিক গাছ রোপণ, অপসারণ করা হলো পাঁচ বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৬ জুন, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল জলাবনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে বন ও বনসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ বস্তারও বেশি প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট শাখা এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের যৌথ উদ্যোগে রাতারগুলের মাঝের ঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃক্ষরোপণ ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচির আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ধরা সিলেট শাখার আহ্বায়ক ও পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার। প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায় হচ্ছে বৃক্ষরোপণ এবং বন সংরক্ষণ। তিনি বলেন, দেশের মোট ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার প্রয়োজন হলেও কার্যকর বনভূমির পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম। সরকারি নথিতে বনভূমি থাকলেও অনেক জায়গায় গাছপালা নেই। তাই বনভূমিতে নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান বন সংরক্ষণ জরুরি।
রাতারগুলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যটকদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতন থাকতে হবে। টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
স্বাগত বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি। তিনি বলেন, সিলেটের পাহাড়, টিলা, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ এখন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি দেশের একমাত্র স্বাদুপানির জলাবন রাতারগুলও এ দূষণের শিকার হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, রাতারগুল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে একসময় এলাকাটি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছিল। স্থানীয় জনগণের আন্দোলনের ফলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে তা অনেকটা বন্ধ রয়েছে। তবে প্লাস্টিক ফাঁদ ব্যবহার করে মাছ শিকার এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড এখনো উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, রাতারগুল শুধু একটি বন নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ আধার। এ বন রক্ষা করা মানে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা। তাই পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের পাশাপাশি সবুজায়ন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।
কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উজ্জ্বল রায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক সঞ্জয় কুমার রায়, পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ধরা সিলেট শাখার সদস্য নাহিদ পারভেজ বাবু ও সোনা মিয়া, স্থানীয় ফতেহপুর ইউনিয়নের মেম্বার ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, রাতারগুল গ্রামের আমির আলী, আরব আলী, মিনহাজ উদ্দিন, ফজলু মিয়া প্রমুখ।
সিলেট, গোয়াইনঘাট, ধরা, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা