১৭ জুলাই ২০২৬

প্রবাস

প্রবাস থেকে দেশে ফেরার যাত্রাই হয়ে উঠল ফখরুলের জীবনের শেষ যাত্রা

প্রতিনিধি, বড়লেখা, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২:০৯ অপরাহ্ন


দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে পরিবারের কাছে ফিরছিলেন ইতালিপ্রবাসী ফখরুল ইসলাম। প্রায় এক যুগের বেশি সময় বিদেশে কাটানোর পর স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন নিয়েই তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে জরুরি অবতরণের পর জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে টানা ২৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে।


ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর এলাকার মহুবন্দ গ্রামের মোকাম বাড়ির বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাতে জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।


পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যাত্রা করেন ফখরুল ইসলাম। আকাশপথে যাত্রার সময় হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় উড়োজাহাজটি জরুরি ভিত্তিতে জর্জিয়ায় অবতরণ করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


পরিবারের সদস্যরা জানান, টানা ২৮ দিন চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস ও কর্মজীবন কাটিয়েছেন ফখরুল ইসলাম। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। দেশে ফিরে আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল এক মর্মান্তিক পরিণতিতে।


ফখরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে তাঁর বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা করতেন।


স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে পৌঁছানোর পর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


শেয়ার করুনঃ

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন

ফখরুল ইসলাম, ইতালিপ্রবাসী, বড়লেখা, মৌলভীবাজার, জর্জিয়ায় মৃত্যু, টার্কিশ এয়ারলাইনস, দেশে ফেরার পথে মৃত্যু, প্রবাসী বাংলাদেশি, রেমিট্যান্স যোদ্ধা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ