মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, গো-খাদ্য সংকটে গবাদিপশু
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৮:৫৯ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে দুর্ভোগ কাটেনি নিম্নাঞ্চলে থাকা বন্যাদুর্গত মানুষের। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দুর্গতরা। বিস্তীর্ণ চারণভূমি ও ঘাস পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে তীব্র গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। বন্যা আক্রান্ত জেলার প্রায় ২৮টি ইউনিয়নের মানুষ গবাদিপশু নিয়ে সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মাঠঘাটের ঘাস পচে যাওয়ায় পশু চরানোর কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে অনেকেই গবাদিপশু উঁচু স্থানে বা সড়কের পাশে বেঁধে রাখছেন। কেউ কেউ ধানের গুঁড়া ও শুকনা খড় খাইয়ে পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের জরিফ মিয়া ও বেলাল মিয়া জানান, বন্যায় পুরো এলাকা ডুবে যাওয়ায় তাদের ৮টি গরু ৪ দিন ধরে প্রায় না খেয়ে আছে। এর মধ্যে দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সবকিছু পানির নিচে থাকায় চারদিকে এক ধরনের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যার কারণে পানি কমার পরেও গবাদিপশু ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে না। শুকনা খড় ছাড়া তাদের দেওয়ার মতো আর কোনো খাবার নেই।
মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানান, বন্যা পরিস্থিতিতে গবাদিপশুর মালিকরা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি সংকটে পড়েছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান বন্যায় পশুর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেই সঠিক তথ্য পেতে আরও এক-দু’দিন সময় লাগবে; বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
এদিকে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহফুজুল হক অমি।
জেলা প্রশাসন জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার সবগুলো পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ধ্যা ৬ টার মনু নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৮৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ মিটার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৬৫ মিটার। এটি বিপৎসীমার ৩ মিটার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচে। অন্যদিকে জুড়ি নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৯৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহফুজুল হক অমি জানান, জেলার সব প্রধান নদ-নদীর পানির স্তর কমছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিলছে। তবে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যা, গো-খাদ্য সংকট, বন্যা পরিস্থিতি বাংলাদেশ, গবাদিপশু সংকট, নদ-নদীর পানি হ্রাস