যে কারণে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারি হতে পারবেন না ইংল্যান্ডের কেউ
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৩ জুলাই, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ন
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার একটি বিশেষ পরিচয় আছে—চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতা। আর সেমিফাইনাল এলেই যেন সেই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যতবার আর্জেন্টিনা শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে, প্রতিবারই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। সেই পরিসংখ্যান এবারও আলবিসেলেস্তেদের সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। এখন সামনে শুধু দুটি ম্যাচ। প্রথম বাধা ইংল্যান্ড। সেটি পেরোতে পারলেই আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা যাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ ছিল না। শুরুতে সুইসরা বলের দখল রেখে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বড় দলের মতোই প্রথম পরিষ্কার সুযোগ থেকেই গোল আদায় করে নেয় স্কালোনির দল। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের নিখুঁত হেডে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে গোল না পেলেও মেসির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে তার পাস, কর্নার এবং বল নিয়ন্ত্রণ বারবার আক্রমণের পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার হয়েছে—শুধু মেসির গোলের ওপর নির্ভরশীল নয় বর্তমান আর্জেন্টিনা। প্রয়োজন হলে অন্যরাও দায়িত্ব নিতে পারেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তাদের দখলে ছিল। কিন্তু একটি লাল কার্ড পুরো সমীকরণ বদলে দেয়। একজন কম নিয়ে খেললেও সুইসরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানেই আবারও দেখা যায় বর্তমান আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি—চাপের মধ্যে শান্ত থাকা। অতিরিক্ত সময়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শট আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দেয়। পরে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাওতারো মার্তিনেজ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যেমন আত্মবিশ্বাস দেখা গেছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়েছে। মাঝমাঠে কিছু সময় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। একজন কম নিয়ে খেলা প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও শেষ পর্যন্ত খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এসব ভুলের সুযোগ কমই থাকবে।
তবু আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অন্য জায়গায়। স্কালোনির অধীনে দলটি গত কয়েক বছরে অসংখ্য বড় ম্যাচ জিতেছে। নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার—যে পরিস্থিতিই আসুক, দলটির মধ্যে ভেঙে না পড়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। ম্যাচ যত কঠিন হয়, আর্জেন্টিনাও যেন তত বেশি সংগঠিত হয়ে ওঠে।
এবার সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এই ম্যাচ ঘিরে আরেকটি কৌতূহলও রয়েছে। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলেননি লিওনেল মেসি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও নিশ্চয়ই জানেন, শুধু কৌশল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে হারানো সহজ হবে না। কারণ এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি পরিসংখ্যান নয়, বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মানসিকতা।
আর ইতিহাস? সেটিও আপাতত আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে যতবার, ততবারই ফাইনাল খেলেছে আকাশি-সাদারা। সেই ধারাবাহিকতা যদি এবারও অটুট থাকে, তবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন থেকে আর্জেন্টিনা আর মাত্র এক ধাপ দূরে থাকবে।
আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ, মেসি, লিওনেল মেসি, বিশ্বকাপ ২০২৬, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, স্কালোনি, আর্জেন্টিনা ফাইনাল, ফুটবল বিশ্বকাপ