০৮ জুলাই ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

সতর্কবার্তার এক বছর পর সিলেটে নকল প্রসাধনী বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৬ ৫:০৫ অপরাহ্ন

ছবিঃ জব্দ করা পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে

এক বছর আগে সতর্ক করা হয়েছিল। তখন জরিমানা না করে শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরে গিয়েছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবার অভিযান চালিয়ে নকল প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন যমুনা মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট। অভিযানে ‘মহিউদ্দিন অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ও ‘শিপা কসমেটিকস’ নামের দুটি দোকানে নকল প্রসাধনী বিক্রির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় অধিদপ্তর। জব্দ করা পণ্য পরে ধ্বংস করা হয়।


অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেটের পরিচালক আরিফ হোসেন মিশু।


তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আজকের অভিযানে আমরা দুটি নকল প্রসাধনী পণ্য জব্দ করেছি। একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নকল ‘ল্যাকমে’ এবং অপরটি ‘পন্ডস’-এর নকল, যার নাম পরিবর্তন করে ‘পনিক্স’ লেখা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় এসব নকল পণ্য কম দামে কিনে আসল পণ্যের দামে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘নকল প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে দেশে ত্বকের বিভিন্ন রোগ, এমনকি স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নারীরা এসব প্রসাধনী বেশি ব্যবহার করায় তাদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি। নকল পণ্য ব্যবহারে ত্বক সাদা হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জিসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’


ভোক্তাদের উদ্দেশে আরিফ হোসেন মিশু বলেন, প্রসাধনী কেনার আগে অবশ্যই পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। দেশীয় পণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, অনুমোদনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না তা দেখতে হবে। বিদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈধ আমদানিকারকের স্টিকার, নাম-ঠিকানা, আমদানির তথ্য, এমআরপিসহ বাধ্যতামূলক তথ্য যাচাই করে তবেই পণ্য কেনা উচিত।


তিনি জানান, কয়েকদিন আগে কামালবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যমুনা মার্কেটে মঙ্গলবারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।


আরিফ হোসেন মিশু বলেন, ‘এখানকার ব্যবসায়ীদের আমরা প্রায় এক বছর আগে সতর্ক করেছিলাম। তখন জরিমানা না করে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তাই আজ আবার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে।’


এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অনেক নিয়মিত ক্রেতা প্রথম দেখায় নকল ও আসল পণ্যের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। তবে বানানের সামান্য পরিবর্তন, লোগোর অমিল বা প্যাকেজিংয়ের ভিন্নতা ভালোভাবে লক্ষ্য করলে সহজেই নকল পণ্য শনাক্ত করা সম্ভব।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, নকল প্রসাধনী, ভোক্তা অধিকার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, আরিফ হোসেন মিশু, যমুনা মার্কেট, কদমতলী, শিপা কসমেটিকস, মহিউদ্দিন অ্যান্ড ব্রাদার্স

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ