০৮ জুলাই ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / ব্যাবসা

ক্রেতা টানতে ব্যর্থ শ্রীমঙ্গল, সিলেটের চায়ের ভাগ্য এখনো চট্টগ্রামের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৬ ৩:৩৪ অপরাহ্ন


দেশের চায়ের মূল উৎস সিলেট বিভাগ হলেও এই চায়ের দাম ও গন্তব্য নির্ধারিত হচ্ছে বহু দূরের চট্টগ্রামে বসে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গড়ে ওঠা নিলাম কেন্দ্রটি আট বছর পেরিয়েও নিজের অঞ্চলের উৎপাদিত চা ধরে রাখতে পারছে না, ফলে সিলেটের চা-অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ কার্যত রয়ে গেছে বন্দরনগরীর হাতেই।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে উৎপাদিত মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চায়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে সিলেট বিভাগ থেকে  মৌলভীবাজার একাই দিয়েছে ৪৭ শতাংশ, হবিগঞ্জ ১৬ শতাংশ ও সিলেট জেলা ৪ শতাংশ। অথচ নিজেদের মাটিতে উৎপাদিত এই চা বিক্রির জন্য বাগান মালিকদের এখনো তাকিয়ে থাকতে হয় চট্টগ্রামের দিকে। কারণ শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্র বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে ২৯ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামে নয়টি নিলামে বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৮ কেজি চা, কেজিপ্রতি গড় দর দাঁড়িয়েছে ২৭২ টাকা ১০ পয়সা। একই সময়ে শ্রীমঙ্গলে আটটি নিলামে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৫ কেজি কেজিপ্রতি গড় দরও কম, ২৫৩ টাকা ৯১ পয়সা। অর্থাৎ চট্টগ্রামের মোট বিক্রির তুলনায় শ্রীমঙ্গলের অংশ মাত্র দেড় শতাংশের সামান্য বেশি। দামেও পিছিয়ে থাকায় বাগান মালিকদের কাছে চট্টগ্রামই এখনো লাভজনক গন্তব্য।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রীমঙ্গলে ক্রেতা না আসার মূল কারণ অবকাঠামোগত ঘাটতি। চা সংরক্ষণের উপযুক্ত ওয়্যারহাউজ না থাকা এবং জটিল অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার কারণে বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এখানে নিয়মিত অংশ নিতে রাজি নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ও ক্রয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করায়, শ্রীমঙ্গলে গিয়ে চা কেনাকে তারা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ❝স্থানীয় মানুষ ও উৎপাদনকারীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্র চালু করেছে। কিন্তু এসব কেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিয়ে আসার দায়িত্ব বেসরকারি উদ্যোক্তাদের। ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণসহ চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চা প্রতিযোগিতামূলক দামে সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়া গেলে ধীরে হলেও নতুন নিলাম বাজারগুলো জনপ্রিয় হবে।❞ তিনি স্বীকার করেন, নতুন নিলাম কেন্দ্রের বিক্রির পরিমাণ এখনো সামান্য অংশে আটকে থাকাটা হতাশাজনক।

উল্লেখ্য, দেড় দশক আগে চট্টগ্রামের একচেটিয়া নিলাম ব্যবস্থার বিপরীতে মৌলভীবাজারে পৃথক নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা আন্দোলনে নামেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ২০১৮ সালের ১৪ মে শ্রীমঙ্গলে চালু হয় দেশের দ্বিতীয় নিলাম কেন্দ্র, যার পরিচালনার দায়িত্বে আছে টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। চলতি মৌসুমে (এপ্রিল-মার্চ) এখানে প্রতি সপ্তাহের বুধবার মিলিয়ে মোট ৪৭টি নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, চা বাগান, শ্রীমঙ্গল, চট্টগ্রাম, নিলাম

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ