স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে দেশে বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পূর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকে দেখুন, সংবাদপত্র কোনো খবর ছাপলে সেটি সরকারের পক্ষেই হোক বা বিপক্ষেই হোক সেই সংবাদপত্র কিন্তু ভয় পায় না। সে তার কথা বলে। একইভাবে যেকোনো ব্যক্তি সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে যা-ই বলতে চান, তা নির্ভয়ে বলতে পারছেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায়ের বিরুদ্ধে গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং হারানো অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি, দেশের জন্য কাজ করতে পারছি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ সরকারের কল্যাণমুখী কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।
তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা যখনই সুদৃঢ় হতে শুরু করে, তখনই একটি মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। অতীতেও ১৭৩ দিন হরতাল, ভাঙচুর ও অবরোধের মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা মূলত জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে দেশের মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে জনগণকেই সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। মালিক সতর্ক থাকলে কোনো অপশক্তিই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মৌলভীবাজার, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান