দুর্গম টিলায় আত্মগোপন, বড়লেখায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৫ মে, ২০২৬ ১:৫৫ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দুর্গম টিলা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি দুর্গম টিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার রাহেদ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল দুর্গম এলাকায় প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি টিলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার রাহেদ কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) তদন্তাধীন একটি মামলার আসামি। ঢাকার শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকেই রাহেদ আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাহেদ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। বড়লেখা উপজেলার দুর্গম বোবারথল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। তার শাহবাগ থানায় মামলা আছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই মাহেদকে সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বড়লেখা, মৌলভীবাজার, অপরাধ, গ্রেপ্তার