চার দশক প্রবাস কাটানো রেমিট্যান্স যোদ্ধার শেষ বিদায়েও ভোগান্তি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
নানা আয়োজন ও বর্ণিল পরিবেশে নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানিয়েছে সিলেটবাসী। নগরের বিভিন্ন প্রান্তে দিনভর শোভাযাত্রা, গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
সকালে সুবিদবাজারের ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শ্রুতি’র উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রবীণ বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, আর সিলেট সেই ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি সিলেটে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী পর্বে আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো এবং সংগীতশিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আয়োজনে দিনভর দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন বিভিন্ন শিল্পীরা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২০টি সংগঠন ও ১৫ জন শিল্পী পরিবেশনায় অংশ নেবেন। বিকেলে লোকসংগীতশিল্পী শ্যামল কুমার পালকে সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, কেওয়াপাড়ার শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে ‘আনন্দলোক সিলেট’-এর ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বেলা দুইটা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সকাল সাড়ে আটটায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নগর ভবন থেকে বের হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শুরুর আগে প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নতুন পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুপুরে নবাবরোডের আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে জাতীয় কবিতা পরিষদ সিলেট বিভাগীয় শাখার উদ্যোগে আলোচনা, আবৃত্তি, গান ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়, যা বিকেল পর্যন্ত চলে। একইভাবে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে চৌহাট্টার ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও দিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলছে।
এ ছাড়া সিলেট জেলা প্রেসক্লাবসহ নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নিজস্ব আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করছে, যা পুরো শহরকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তুলেছে।
সিলেট, নববর্ষ, উৎসব