প্রবাসীদের জন্য ‘কার্ড’ ছাড়াও খুলছে ৭ নতুন শ্রমবাজার
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১১ জুন, ২০২৬ ৭:১৮ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাভিয়েশন ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের যে রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, সেখানে সিলেটকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা, কার্গো পরিবহন এবং যাত্রীসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সরকার।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোকে সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এর ফলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে কৃষি ও প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, অ্যাভিয়েশন খাতের উন্নয়নের সঙ্গে পর্যটন শিল্পের বিকাশও জড়িত। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, রাতারগুল ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিমান যোগাযোগ উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের লক্ষ্য, পর্যটন খাতের অবদান দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ সংগ্রহের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিলেটসহ দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট, বিমানবন্দর, অ্যাভিয়েশন ও লজিস্টিকস, বাজেট, অর্থমন্ত্রী