১৬ এপ্রিল ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / উদ্ভাবন

জিনিয়াস অলিম্পিয়াডের ফাইনালে সিলেটের এক শিক্ষার্থীসহ দুই তরুণ গবেষক

ডেটা সেন্টারের পানি পুনর্ব্যবহারে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আবিষ্কার

মিফতা হাসান

প্রকাশঃ ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন

ছবিঃ বামদিক তরুণ গবেষক থেকে মো. ওয়াশিউন আলিম ও রোহিত সরকার। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ডেটা সেন্টারের দূষিত পানি পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনর্ব্যবহারের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আবিষ্কার করে আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ‘জিনিয়াস অলিম্পিয়াড’-এ চূড়ান্ত প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন দেশের দুই তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষক মো. ওয়াশিউন আলিম এবং রোহিত সরকার।

 

বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে পানির সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে পরিণত হয়েছে। তাদের উদ্ভাবিত ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’ প্রক্রিয়ায় ডেটা সেন্টারের দূষিত পরিশোধন করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। এতে পানির সংকট আরও কমতে পারে। 

 

তরুণ এই দুই গবেষকদের মধ্যে রোহিত সরকারের বাড়ি সিলেটে ও মো. ওয়াশিউন আলিমের বাড়ি নাটোর জেলায়। রোহিত সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। আর ওয়াশিউন আলিম গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। 

 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইউর্কে পৌঁছার কথা রয়েছে তরুণ ওই গবেষকদের।  

 

বিশ্বের অন্যতম বড় স্কুল পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিল্প, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল লেখালেখিসহ মোট নয়টি ক্যাটাগরিতে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা। পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন ও বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

 

এ বছর বিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’ (ReWater-DC Evo) নামের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতার জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন ওয়াশিউন ও রোহিত। আগামী ৮-১২ জুন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের জন্য নিউইউর্কে পৌঁছাবেন তাঁরা।

 

জানা গেছে, চলতি বছর ৭৪টি দেশের ৩ হাজার ২৫৪টি প্রকল্প জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে ৮৯২টি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের এই দলটি সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

 

প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে যাওয়া ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৮ থেকে ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইউর্ক শহরে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জিনিয়াস অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। এতে তাঁরা পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্পটি উপস্থাপন করবেন।

 

তরুণ ওই গবেষকরা সিলেট ভয়েসকে জানান, চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত রচেস্টার ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (আরআইটি)-তে পড়াশোনার জন্য বছরে ১০ হাজার মার্কিন ডলার করে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। এ হিসেবে তাঁরা চার বছরে মোট ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বৃত্তি পাবেন বলে জানান ওই গবেষকরা।

 

তাঁরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লবের যুগে বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পানি ব্যবহারের চাপ। ডাটা সেন্টার কুলিং সিস্টেমে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের ফলে খাবার পানির সংকট ও পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন তাঁরা।

 

সিলেট ভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক কার্যক্রমে যুক্ত। স্কুলের পাঠ্যবই, জার্নাল এবং সংবাদপত্রে পরিবেশ সংকট নিয়ে পড়াশোনার মাধ্যমেই তারা এই গবেষণার ধারণা পেয়েছেন।

 

বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার পানি সংকটকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আরও গভীর করে তুলছে বলে মনে করেন ওই তরুণ দুই গবেষক ।

 

সাক্ষাৎকারে তরুণ গবেষকরা আরও বলেন, আধুনিক ডাটা সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক চালু থাকে এবং উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর ও সার্ভারের কারণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে কুলিং ব্যবস্থায় বাধ্য হয়ে পানি ব্যবহার করতে হয়। এই পানি ব্যবহারের পর তা দূষিত হয়ে পড়ে এবং এতে ভারী ধাতু ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

 

তারা দাবি করেন, উন্নত দেশগুলোতে ডাটা সেন্টারের পানির চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে কোথাও কোথাও পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও পড়বে।

 

রোহিত সরকার বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগে জিনিয়াস অলিম্পিয়াডের মতো বড় প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়াটা আমার জন্য অনেক বড় সাফল্য।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমার মা-বাবা। তারা সবসময় চেয়েছে আমি পৃথিবীর সমস্যা নিয়ে কাজ করি।’আমি ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ বিষয়ক কাজ ও বিভিন্ন পরিবেশ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে আসছি। নিজের দেশকে বিশ্বের বড় একটি প্ল্যাটফর্মে রিপ্রেজেন্ট করতে যাচ্ছি, এই অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ,’— সিলেট ভয়েসকে বলেন রোহিত।

 

তাঁর দলের প্রধান গবেষক মো. ওয়াশিউন আলিম বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক কাজ করে আসছি। স্কুলের পাঠ্যবই, জার্নাল আর সংবাদপত্রে পরিবেশ সংকট নিয়ে পড়তে পড়তেই এই গবেষণার ধারণা এসেছে। পৃথিবী একটা ক্লোজড সিস্টেম। এক দেশের পরিবেশগত ক্ষতি শেষ পর্যন্ত অন্য দেশকেও প্রভাবিত করে।’

 

সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, এআই রেভুলেশনের কারণে ডাটা সেন্টারের পানির চাহিদা বেড়ে গেছে। এর ফলে খাবার পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।’

 

আমাদের গবেষণায় তিন ধাপে পানি শোধনের চেষ্টা করেছি। প্রথমে, সলিডিটি কমানো, এরপর ভারী ধাতু অপসারণ এবং শেষে কেমিক্যাল ফ্রি করে পানি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা,’ সিলেট ভয়েসকে যোগ করেন ওয়াশিউন।

 

প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া এসএসসি পরিক্ষার্থী রোহিত সরকার সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরশহরের বাসিন্দা। তার বাবা লিটন সরকার একজন ব্যবসায়ী। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন রোহিত।

 

অন্যদিকে ওয়াশিউন নাটোরের সিংড়া পৌরশহরের চালকারিপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা খোদাদাত মো. শাহরিয়ার পেশায় চিকিৎসক। তবে বাবার কর্মসূত্রে ওয়াশিউন বেড়ে ওঠা সিলেটে। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

 

উদ্ভাবন ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’

 

ওয়াশিউন ও রোহিতের উদ্ভাবিত ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’ প্রকল্পটি মূলত ডাটা সেন্টার থেকে উৎপন্ন দূষিত পানি পুনর্ব্যবহারের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। ডাটা সেন্টারের সার্ভার শীতল রাখতে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়, যা ব্যবহারের পর লবণ, ভারী ধাতু ও ক্ষতিকর জৈব পদার্থে দূষিত হয়ে পড়ে।

 

প্রচলিত পদ্ধতিতে এই পানি পরিশোধনে উচ্চ খরচ ও রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ফলে খরচের পরিমাণও বেড়ে যায়। তাই তূলনামূলক কম খরচ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে পানি পরিশোধনে তারা উদ্ভাবন করেন 'রি-ওয়াটার ডিসি ইভো'। তাদের উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, সৌরশক্তিচালিত এবং তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল।

 

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া রোহিত সরকার জানান, তাদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি মূলত তিন ধাপে কাজ সম্পন্ন করে। সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে বিদ্যুতের সাহায্যে ভারী ধাতু ও ময়লা আলাদা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে সূর্যের আলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলা হয়। তৃতীয় ধাপে বিশেষ কার্বন উপাদানের মাধ্যমে পানির লবণ দূর করা হয়।’

 

দলের অন্য সদস্য ওয়াশিউন সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো পদ্ধতিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। একই সঙ্গে এতে কম বিদ্যুৎ লাগে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক তৈরি হয় না। তাই এটি পরিবেশের জন্য উপযুক্ত।’

 

উচ্ছ্বসিত ওয়াশিউন-রোহিত ও পরিবার, আছে শঙ্কাও

 

অল্প বয়সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপণ করতে পারায় নিজেদেরকে সৌভাগ্যমান মনে করছেন প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পারা মো. ওয়াশিউন আলিম এবং রোহিত সরকার। শুধু তারা নয়, তাদের এমন সাফল্যে পরিবারও বেশ আনন্দিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত, খাওয়া-থাকার জন্য মোটা অংকের অর্থের জন্য কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তরুণ ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

 

এ বিষয়ে রোহিত সরকার সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগামী জুন মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত আমাদেরকে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটের রচেস্টারে থাকতে হবে। আমাদের মূল খরচের কয়েকটা সেক্টর হচ্ছে ভিসা, ফ্লাইট এবং রেজিস্ট্রেশন ফি। রেজিস্ট্রেশন ফি আমাদের প্রত্যেকে ৬০০ ডলার করে।’

 

তিনি বলেন, ‘গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে অনেক সময় নতুন কিছু উপকরণ দরকার পড়ে। গবেষণার জন্য ল্যাব সুবিধা প্রয়োজন, যা আমাদের এখানে সীমিত। এছাড়া চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট এবং ফান্ডের প্রয়োজন।’

 

মো. ওয়াশিউন আলিম সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সংস্থা বা মন্ত্রণালয় থেকে তেমন কোনো সাড়া পাইনি। তবে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে যাচ্ছি বলে আশা করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আমাদের সহায়তা করবে।’

 

তিনি বলেন, ‘ভিসা প্রসেসিংয়ের বিষয়টা যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে এম্বাসিতে পিচ করা যায়, তাহলে আমাদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।’

 

রোহিত সরকারের বাবা লিটন সরকার বলেন, ‘আমার ছেলে ও তার দল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছে দেখে একজন বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। সে অনেক পরিশ্রম করেছে এবং ধৈর্য ধরে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই সাফল্য আমাদের পরিবারের জন্য বড় অর্জন।’ 

 

যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের বিষয়ে লিটন সরকার বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করতে যাতায়াত, থাকা এবং অন্যান্য খরচের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। একটি মধ্যবিত্ত পরিবার হিসেবে এই ব্যয় একা বহন করা আমাদের জন্য খুবই কঠিন।’

 

ওয়াশিউনের পিতা খোদাদাদ মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘ছেলের এ অর্জনে আমি গর্বিত। আমি চাই পৃথিবীর যে প্রান্তেই সে থাকুক, ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং নিজের মতো করে পৃথিবীটাকে আবিষ্কার করুক। পৃথিবীটা অনেক বড়, আর আমি চাই সে যেন সেই পৃথিবীটাকে নিজের চোখে দেখে, নিজের মতো করে উপভোগ করে।’


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

জিনিয়াস অলিম্পিয়াড, গবেষক, মো. ওয়াশিউন আলিম, রোহিত সরকার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ