সপ্তাহে তাপমাত্রায় রেকর্ড, বাতাসের মানও অস্বাস্থ্যকর
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল-টেংরা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। জেলার তিনটি উপজেলা (জগন্নাথপুর, দিরাই ও আজমিরীগঞ্জ) দিয়ে বয়ে চলা নদীটি ভাঙনের শিকার হওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। ভাঙন রোধ না হলে উপজেলার অন্তত ৮টি হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জগন্নাথপুর উপজেলার রৌয়াইল-টেংরা এলাকায় জরুরি ফান্ড থেকে নদীভাঙন রোধ প্রকল্পের আওতায় জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরক্ষা কাজ করলেও তা কার্যকর হয়নি। এসব এলাকায় ভাঙনের প্রকটতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এদিকে সম্প্রতি রৌয়াইল-টেংরা গ্রামের পাশে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো আশ্বাস বা উদ্যোগ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রামবাসী নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রৌয়াইল গ্রামসহ উপজেলার নদীতীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ থেকে ২০টি গ্রাম। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। রক্ষা পায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মসজিদ ও শ্মশানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন আরও বহু মানুষ। যেকোনো সময় নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে আরও বসতবাড়ি, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক।
রৌয়াইল গ্রামের ইউপি সদস্য টিপু সুলতান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে দিশেহারা গ্রামবাসী। দ্রুত ভাঙন রোধ না হলে ৮টি হাওরের ফসল তলিয়ে যাবে।
রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা আশাফুজ্জামান বাদশা বলেন, আমরা নদীভাঙনে একেবারে অসহায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের এলাকার ৮টি হাওর তলিয়ে যাবে।
টেংরা গ্রামের মসাহিদ আলী বলেন, আমাদের বাড়িঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট সবই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেন, আমরা কুশিয়ারা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করব। দ্রুত কাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ বলেন, আমি গ্রামবাসীর লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কুশিয়ারা নদী, জগন্নাথপুর, নদী ভাঙন, সুনামগঞ্জ