আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্লেন বিধ্বস্ত, ৫ আরোহী নিহত
বিশ্বজুড়ে
প্রকাশঃ ১৩ জুন, ২০২৬ ৬:৩৭ অপরাহ্ন
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত প্রকাশের পর পরই তেহরানের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রকাশিত শর্তগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, “লিখিতভাবে যেসব শর্তে সম্মতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে এর (ইরানি গণমাধ্যমের খবরের) কোনোই সম্পর্ক নেই।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “এরা চুক্তির ক্ষেত্রে চরম অসৎ। এদের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে কোনো চুক্তি করার সুযোগ নেই।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি টেকসই সমাধানের চেষ্টা চলছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন একটি চুক্তি ‘অনুমোদন’ হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তাঁর নতুন এই ক্ষুব্ধ বিবৃতি প্রমাণ করে, চুক্তির অগ্রগতি এখনো বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের এত কাছাকাছি তাঁরা এর আগে কখনোই পৌঁছাননি।
তবে শর্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমগুলোকে অনুমাননির্ভর খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান আরাগচি। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে আরাগচির এই বার্তার একটি স্ক্রিনশটও পোস্ট করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদন
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করলেও, ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ চুক্তির সাতটি ‘মূল শর্ত’ প্রকাশ করার পরপরই ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া আসে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধ সাময়িক বন্ধ রাখার একটি চুক্তি হলেও স্থায়ী চুক্তির ক্ষেত্রে মূল বিষয়গুলোতেই মতবিরোধ চলছিল। ইরনার ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরান কার্যত কোনো ছাড়ই দেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো মতৈক্য হয়নি এবং চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার বিষয়েও ইরান একমত হয়নি।
ইরনার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছাড় দেওয়া হবে। বাকি সম্পদ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো পরে আলোচনা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের কোনো তহবিল ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার তিনি সাফ জানিয়ে দেন, চুক্তির অধীনে ইরান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই কেবল এই তহবিল ছাড় দেওয়া হবে।
ভ্যান্স আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যেভাবেই হোক আমাদের জন্য একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসবেন।”
সূত্র: আল–জাজিরা
ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধবিরতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আব্বাস আরাগচি, আল জাজিরা