৩০ মার্চ ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / বাণিজ্য

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন


বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে চলমান ডব্লিউটিও’র মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (এমসি১৪) অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।


সম্মেলনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে (২৭ ও ২৮ মার্চ) বিভিন্ন থিম্যাটিক সেশনে অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। তিনি এমসি১৪-এ এই সংক্রান্ত একটি কার্যকর প্যাকেজ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান।


বিরোধ নিষ্পত্তি ও সংস্কার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি কার্যকর ও দুই-স্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বিশেষ করে অ্যাপিলেট বডির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঐকমত্যভিত্তিক পদ্ধতি থেকে সরে আসলে বিদ্যমান বৈষম্য আরও প্রকট হতে পারে।


মৎস্য ও কৃষি খাত মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্য, অথচ বড় মাছ শিকারি দেশগুলোর কারণে সামুদ্রিক সম্পদ হুমকিতে পড়ছে। তিনি বৃহৎ দেশগুলোর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতির দাবি জানান। কৃষি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে পাবলিক স্টকহোল্ডিং এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকি বন্ধের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।


বিনিয়োগ চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সম্মেলনের একটি বিশেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা করেন, এই চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে।


মেধা সম্পদ ও জনস্বাস্থ্য ট্রিপস চুক্তির আওতায় জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ‘নন-ভায়োলেশন ও সিচুয়েশনাল কমপ্লেইন্টস’-এর ওপর স্থগিতাদেশ পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত বজায় রাখার পক্ষে মত দেয় বাংলাদেশ। মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।


সম্মেলনের শেষ দিকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য বিভাজন ও একতরফা পদক্ষেপের ফলে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ডব্লিউটিও-এর সংস্কার প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হতে হবে, যাতে একটি সমতাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, কাঠামোগত বৈষম্য দূর, বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার মুক্তাদির

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ