কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক ও পর্যটকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ন
একজন সংসদ সদস্য, যিনি নিজের অসুস্থতার কারণে শারীরিকভাবে প্রতিরোধের সামর্থ্য হারিয়েছিলেন তাঁকে ঘিরেই এখন গড়িয়েছে এক তিক্ত পারিবারিক ও আইনি লড়াই। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সম্পত্তি নিয়ে তাঁর নিজের সৎ ভাইদের বিরুদ্ধেই ওঠেছে জোরপূর্বক দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ। পারিবারিক কোন্দলের ওই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আদালতে।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বয়ং সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার। সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তারের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী কাওছার আলম। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নাসির উদ্দিন চৌধুরীর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে তা আত্মসাতের একটি পরিকল্পনা বহু আগে থেকেই নিয়েছিলেন তাঁর সৎ ভাইয়েরা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী—এমপির নিজের সৎ ভাই।
মামলায় তাদের সঙ্গে আরও পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।
দিরাই আমলগ্রহণকারী আদালতে দায়ের করা এই মামলায় বাদী পারভিন আক্তার নিজেও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়।
মামলার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারির একটি ঘটনা। এজাহার অনুযায়ী, দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা সাজিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় শারীরিকভাবে অক্ষম ও মানসিকভাবে অসহায় অবস্থায় থাকা নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে। তাঁকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। এরপরই ঘটে সেই লোমহর্ষক দৃশ্য অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর গলায় রামদা ধরে হুমকি দেওয়া হয়, স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করা হবে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন নাসির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বাধা দিতে। তাঁকেও একইভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, যার ধাক্কায় তিনি অসুস্থ হয়ে মেঝেতে ঢলে পড়েন। ঘটনাটি চোখের সামনে দেখেন এমপির এক সমর্থক, যিনি সে সময় বাড়িতে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকেও তাড়িয়ে দেন ঘটনাস্থল থেকে যেন কোনো সাক্ষী অবশিষ্ট না থাকে।
মামলাটি আমলে নিয়ে দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডিকে। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে। মামলাটি পারভিন আক্তারের পক্ষে দায়ের করেছেন আইনজীবী কাওছার আলম।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক দাবি করেন, দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার নিজে, তাঁরা নন।
তিনি বলেন, দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার। আমার বোন এবং নাসির উদ্দিন চৌধুরীর প্রকৃত স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দেব।
সংসদ সদস্য, সম্পত্তি দখল, নাসির চৌধুরী, পারিবারিক কোন্দল, আদালত, সুনামগঞ্জ