১৬ এপ্রিল ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / ক্যাম্পাস

সড়ক সংস্কারে উদাসীন শাবিপ্রবির প্রশাসন, ভাঙা রাস্তায় দু্র্ভোগ

আশিকুর রহমান আশিক, প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি

প্রকাশঃ ৯ মার্চ, ২০২৬ ৮:৩৩ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস

ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনিতে ওষ্ঠাগত প্রাণ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) গোলচত্বর থেকে সৈয়দ মুজতবা আলী হল পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আবাসিক হলগুলো ও পাশ্ববর্তী মেসগুলোর হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা।

 

ছেলেদের আবাসিক হল, নয়াবাজার, টিলারগাও এলাকায় শাবিপ্রবির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের এই রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করেন। বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি সংস্কারের দাবি তুললেও তা কার্যকর হয়নি। 

 

এদিকে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সড়কটি।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের সামনে থেকে গেইট পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে ক্লাস, টিউশন করাতে যাতায়াত করেন সৈয়দ মুজতবা আলী, বিজয়-২৪ ও শাহপরান হলের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও নয়বাজার, টিলারগাও এলাকার বিভিন্ন মেসে বসাবস করা শিক্ষার্থী ও ওই সকল এলাকায় বসাবস করা শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তারা যাতায়াত করেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের কারণে ভারী যানবাহন চলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাস্তাটি।

 

এই রাস্তা দিয়ে সবসময়ই যাতায়াত করা শাবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সড়কগুলো কাদা ও খানাখন্দে ভরা অবস্থায় রয়েছে। চলমান নির্মাণকাজের কারণে প্রতিনিয়ত ভারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ফলে সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সড়কের এমন দূর্বিষহ অবস্থা কেবল অস্বস্তিকর নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী। 

 

‘শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিতে বিব্রত ও লজ্জিত বোধ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়ক সংস্কার এবং ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি’, বলেন আল আমিন। 

 

রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে একজন ইজিবাইক চালক বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে অনেকবার বলেছি কিন্তু এটা সংস্কার হচ্ছে না। এছাড়া ভাঙ্গা রাস্তার কারণে আমাদের গাড়িগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাস্তাটি সংস্কার করা হলে আমাদের এবং শিক্ষার্থীদের উভয়ের জন্যই ভালো হবে।’

 

এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অনেকগুলো বড় ধরনের অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ চলছে। এই কাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী বহনকারী যানবাহনগুলো চলাচলের জন্য বিকল্প কোনো পথ নেই। 

 

তিনি বলেন, ‘ফলে বাধ্য হয়ে যানবাহনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকা অবস্থায় এখন যদি বড় পরিসরে রাস্তা মেরামত করা হয়, তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

প্রকৌশলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বড় অবকাঠামোগত কাজগুলো শেষ হওয়ার পরপরই স্থায়ীভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে রাস্তাটি নতুন করে তৈরির কাজ শুরু হবে।’

 

মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর অনেকগুলো অবকাটামোগত কাজ চলছে। এসব কাজের সরঞ্জাম নিয়ে বারি যানবাহনগুলো বিকল্প রাস্তা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে।এসব কারণে এখন রাস্তা মেরামত করলেও খুব অল্প সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা আছে।প্রাথমিকভাবে আমরা খুব শীঘ্রই সংস্কার করবো এছাড়া অবকাটামোগত কাজ শেষ হলে এই রাস্তাটা নিয়ে কাজ করবো।’


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

শাবিপ্রবি, সড়ক ভাঙা, দুর্ভোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ