আপনাদের ভালোবাসায় আমি আবেগাপ্লুত, এ ঋণ শোধ হওয়ার নয়: মাও. হাবিবুর
নির্বাচন
প্রকাশঃ ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৭:১১ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন জামানত হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম বেসরকারিভাবে সিলেটের ছয়টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পান, তবে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে সিলেটের ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে ছয়জন, সিলেট-২ আসনে তিনজন, সিলেট-৩ আসনে চারজন, সিলেট-৪ আসনে তিনজন, সিলেট-৫ আসনে একজন এবং সিলেট-৬ আসনে তিনজন।
এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৯। আসনটিতে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪০ হাজার ৬৯২ ভোট। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী এর নিচে ভোট পেয়ে তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন—গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (৩১৪ ভোট), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (১,১৩৪ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (২,৭০১ ভোট) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৯০৮ ভোট) ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়া (২৩৯ ভোট) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসাবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস (৮০১ ভোট)।
এ আসনে মোট ভোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৭। এ হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ২০ হাজার ৫৬৩ ভোট। তিনজন প্রার্থী ২০ হাজার ৫৬৩ এর নিচে ভোট পেয়েছেন। তাঁরা হলেন—জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (১,৪২০ ভোট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (১,৪০৮ ভোট) এবং গণফোরামের মো. মজিবুল হক (৬৩৭ ভোট)।
এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৬৪৭। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৫ হাজার ৫৮১ ভোট। এ হিসেবে চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকর (২৯৭ ভোট) স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (৪,১৯৯ ভোট) জাতীয় প্রার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (২,৬৩০ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (১,৩৯১ ভোট)।
এ আসনে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৫। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩৩ হাজার ৮২১ ভোট। সেই হিসেবে এ আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (৫৬১ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাইদ আহমদ (২,৭১৪ ভোট) এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান (১,৯৬৬ ভোট)
এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৫১৮। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ভোট ছিল ২৬ হাজার ৪৩৯ ভোট। এ আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনজনই জামানত বাজেয়াপ্তের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন (৩৭২ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।
এ আসনে মোট ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৬। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৬২ ভোট। এর নিচে ভোট পেয়ে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান (১,৩৮৬ ভোট) জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুল নূর (১,১৭০ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (২৩,৮৪৬ ভোট)।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে আটজন, সিলেট আসনে পাঁচজন, সিলেট-৩ আসনে ছয়জন, সিলেট-৪ আসনে পাঁচজন, সিলেট-৫ আসনে চারজন ও সিলেট-৬ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সিলেট, নির্বাচন, জামানত বাজেয়াপ্ত