৩০ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রার আদ্যোপান্ত: হামলা, ১৪৪ ধারা, পুলিশি বাধা, অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে টানা দুই দিনে ঘটেছে একের পর এক আলোচিত ঘটনা। মঙ্গলবার পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের হামলায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে এনসিপি। এ ঘটনার জেরে ছাত্রদল-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। 

 

এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। তারপর ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দিতে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে যাত্রা করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। একের পর এক পুলিশি বাধা অতিক্রম করে অবশেষে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে রাজনৈতিক দলটি। 

 

  • মামলা দায়ের: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দলটির নেতারা। বুধবার (৩০ জুলাই) রাতে একাধিক পুলিশি বাধা অতিক্রম করে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে পৌঁছেন এনসিপি নেতারা। সেখানে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদের উপস্থিতিতে এ অভিযোগ দাখিল করেন তারা। 
  • ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে হামলা: এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে হবিগঞ্জ শহর থেকে ফেরার পথে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখা ও সবুজবাগ এলাকায় হামলার শিকার হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। 
  • পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত: দলীয় নেতাকর্মীর অভিযোগ, হামলায় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পর এনসিপি এবং ছাত্রদল-যুবদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
  • শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলে পুলিশের বাধা: হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
  • সড়কে বসে অবস্থান: বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ তাদের বহরে ব্যারিকেড দেয়। পরে বাহুবল উপজেলার মুছাই ও রশিদপুর এলাকায় হবিগঞ্জ জেলা পুলিশও গাড়িবহর আটকে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা সড়কে বসে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
  • মামলার ঘোষণা নাহিদের: পুলিশকে উদ্দেশ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কেন আমাদের গাড়ি আটকে দিয়েছেন? আমরা হবিগঞ্জ যাবো। সেখানে আমরা মামলা করবো।’
  • সারজিসের অভিযোগ: বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি-ছাত্রদল ও স্থানীয় এমপির সন্ত্রাসী বাহিনী রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ২০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। পরবর্তীতে প্রশাসন ও বিএনপি নাটক সাজিয়ে আমাদের রাজনৈতিক অধিকারকে খর্ব করতে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আমরা সেখানে যাব।’ পরে বাহুবলে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে।
  • মামলা না করে ফিরব না: রশিদপুরে অবস্থানকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, "আমরা একটি গাড়ি নিয়ে পাঁচজন শুধু হবিগঞ্জে যাবো। হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরবো না। আমাকে যদি হবিগঞ্জের মানুষ মারে, তবে আমি ধরে নেব যে, এটি আমার কামাই।"
  • সংঘর্ষ এড়াতে বাঁধা, বলছে পুলিশ: মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতেই এনসিপির বহরকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তারা বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যান।
  • ১৪৪ ধারা জারি: হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় এনসিপির নেতারা শহরে প্রবেশ করে সমাবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারত। সে কারণে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কামাইছড়ায় পুলিশ অবস্থান নেয়।
  • ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা: রাতে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে পৌঁছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এনসিপির নেতারা।
  • হবিগঞ্জ জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুয়েল বাদী হয়ে দায়ের করা অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ জমা দিয়ে নেতারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
  • পদযাত্রা কাল, সতর্ক অবস্থানে ওসমানীনগরের পুলিশ: এদিকে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সব ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে।’

শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

এনসিপি, হবিগঞ্জ হামলা, মামলা, সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম, ১৪৪ ধারা, ওসমানীনগর, পুলিশ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ