০৫ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

দিরাইয়ে একের পর এক অভিযান, তবু থামছে না মাদক কারবার

প্রতিনিধি, দিরাই, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:১৭ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় একের পর এক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গ্রাম্য বাজারগুলোতে দিন দিন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ভয়াবহতা বাড়ছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেও মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


এরই ধারাবাহিকতায় দিরাই থানা পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি সত্যবান বৈষ্ণব ও শিশির বৈষ্ণবকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে শুক্রবার সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

 

এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কামালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পাঁচ লিটার মদ জব্দ করে। এ ঘটনায় সুরেন্দ্র বৈষ্ণবকে আসামি করে দিরাই থানায় একটি মামলা করা হয়। এ নিয়ে কামালপুর ও চরনারচর এলাকায় মদ ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেও দিরাই থানা পুলিশ পাঁচজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে মামলা করলেও কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পৃথক অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে। 

 

এদিকে সুরেন্দ্র বৈষ্ণবের বাড়িতে তল্লাশির আগে চরনারচর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বেণু বিশ্বাস, রাজীব দাস ও নিরু দাসের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তবে সেখান থেকে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। একইভাবে চরনারচর বাজারে মিটন বৈষ্ণবের দোকান এবং কামালপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী বিমান দাসের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েও কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কামালপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া ওরফে ‘চোরা লোকমান’-এর বাড়িতে মদ ও গাঁজা মজুত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও সেখানে কার্যকর অভিযান হয়নি। এমনকি অভিযানের সময় লোকমান মিয়াকে সঙ্গে নেওয়া হলেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়নি। 

 

এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কোন রেহাই নেই, সবাইকে ধরবো। প্রয়োজনে আমি নিজে অভিযান চালাবো, গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি সত্যবান বৈষ্ণব ও শিশির বৈষ্ণবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

দিরাই, মাদক কারবারি, অভিযান, পুলিশ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ