২৯ জুন ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

জগন্নাথপুর বিএনপি নেতাকে দিনে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, রাতে বহাল

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ৩:১১ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেনের বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ সংক্রান্ত চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবারো বহিষ্কার আদেশ পুনর্বহালের চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 


এ নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা দেখা দেয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আক্তার ইস্যু নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।


বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বুধবার  বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আক্তার হোসেন ওরফে আক্তারুজ্জামানের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে তার প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। 


কয়েক ঘন্টা যেতে না যেতেই রাতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে ‘ভূলবশত’ আক্তার হোসেনের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের কথা বলা হয় এবং আক্তার হোসেনের বহিষ্কার আদেশ বহালের কথা জানানো হয়।


বিএনপির মিডিয়া সেল এ চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে আক্তার বিরোধী নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেন।


বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির দুই ধারায় বিভক্ত। একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন বিএনপি মনোনীত সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ অনুসারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ।


অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেনের বলয়ের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান।


২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করে জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে মেয়র নির্বাচিত হলে দলীয় রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তখন তার নামে ‘আক্তার গ্রুপ’ হিসেবে  বিএনপির ওই অংশ সক্রিয়  রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদকে ঠেকাতে আক্তার হোসেন বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে একমঞ্চে উঠে ঐক্যের ডাক দেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য নাদির আহমেদ, যুক্তরাজ্যর সুইডিশ বিএনপির সাবেক সভাপতি এম একাহার, মেজর অব. সেয়দ আশফাক শামী।


কিন্তু মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  কয়ছর এম আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে করে আক্তার অনুসারী নেতাকর্মীরা হতাশ হন। গত বুধবার আক্তার হোসেনের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন। কিছু সময় পর বহিষ্কার আদেশ বহালের চিঠিতে আবারো হতাশা দেখা দেয়।


জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেন জানান, দলের নেতাকর্মীদের চাপে তিনি বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের চিঠি পান। বহিস্কার আদেশ পুনর্বহালের কোন চিঠি তিনি পাননি। দলের মিডিয়া সেলে বহিষ্কার আদেশ বহালের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানেন না।


জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ বলেন, ‘আক্তার হোসেনের বহিষ্কার আদেশ ভুল করে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তা পুনর্বহাল করে চিঠি ইস্যু করা হয়।’


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর, বিএনপি নেতা, দিনে বহিষ্কারাদেশ, প্রত্যাহার, রাতে বহাল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ