১৬ আগস্ট ২০২৬

ব্যবসা-বাণিজ্য / ব্যাবসা

তিনদিন পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক

প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১:৩২ অপরাহ্ন


টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জেলার ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ মোটামুটি ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড। ফলে কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোতে আবার উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে।


জালালাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘হবিগঞ্জ লাইনে এখন গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। আশা করি, অব্যাহত থাকবে, যদি এলএনজি সরবরাহ ঠিক থাকে।’


জালালাবাদ গ্যাসের শাহজিবাজার ব্যবস্থাপক খালেদ গনি বলেন, শনিবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোর লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো ধাপে ধাপে উৎপাদনে ফিরতে পারবে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জে প্রায় ২০ দিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছিল। শুরুতে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। কম চাপের মধ্যেও কোনোভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল কারখানাগুলো।


তবে গত বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই দিন থেকে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি ছোট-বড় শিল্পকারখানার প্রায় সব কটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।


কোনো কারখানায় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখা হয়, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয় শ্রমিকদের মধ্যে।


গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা দুই ক্ষেত্রেই সংকট দেখা দেয়।


এ অবস্থায় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছিল শিল্পমালিকদের। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন বড় অঙ্কের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েকটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রয়াদেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।


শনিবার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও।


পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাব্বি বলেন, শনিবার সকাল থেকেই তাদের কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস পাওয়ায় মেশিন চালু করে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


সায়হাম স্পিনিং মিলসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিয়াকত হোসাইন বলেন, সকাল থেকেই তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে। তবে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


শেয়ার করুনঃ

ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন

হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ, হবিগঞ্জ গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানায় গ্যাস, হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল, ১৭১ শিল্পকারখানা, জালালাবাদ গ্যাস, গ্যাস সংকট, এলএনজি, হবিগঞ্জ শিল্প

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ