শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা: তথ্য উপদেষ্টা
নির্বাচন
প্রকাশঃ ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:৩৯ অপরাহ্ন
সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা—জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ সংসদীয় আসন। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে মাত্র একবার বিএনপির কোনো নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময়ই জোটের স্বার্থে আসনটি অন্য দলের হাতে ছেড়ে দিতে হয়েছে বিএনপিকে।
এ আসনে মনোনয়ন না পাওয়াকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হিসেবেই দেখা হয়। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে মাত্র তিনবার ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। বাকি ১০টি নির্বাচনে এই আসনটি জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাহির চৌধুরী এ আসনে দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন।
এরপর দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিএনপির কোনো নেতা এখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা করা হলে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) দলীয় নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
এবার সেই দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস ঘোচাতে বেশ তৎপর স্থানীয় বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদসহ অন্তত ৯ জন নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে মামুনুর রশীদ নিজ এলাকায় সড়ক সংস্কার, নদী ভাঙন রোধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আসনটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এবারও হয়তো জোটের শরিকদের জন্য এ আসন ছাড়তে পারে দল।
মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ স্পষ্টভাবে বলেন, বারবার কেন এ আসনটি বিএনপিকে ছাড়তে হয়? স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত ও সাধারণ ভোটারদের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে জোটের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এবার যদি দল এমন সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা কোনো সহযোগিতা করবো না।”
অন্যদিকে বিএনপির সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউস জানান, দলীয় হাইকমান্ড সুপরিকল্পিতভাবে প্রার্থী নির্বাচন করছে। কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা বিগত দিনে আন্দোলনে দলের পাশে ছিলেন। টার্গেট করে কোনো আসন ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীও একই সুরে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া কেউ কোনো মন্তব্য করতে পারে না। সিলেট-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হবে কি না—তা শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। তবে এটা ঠিক, দীর্ঘদিন ধরে আসনটি বিএনপির হাতে না থাকা স্থানীয়ভাবে কষ্টের।
স্বাধীনতার পর থেকে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগ চারবার, জাতীয় পার্টি তিনবার, স্বতন্ত্র দুইবার এবং বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট একবার করে বিজয়ী হয়েছে। জোটের কারণে একবার বিএনপির শরিক জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে জয় পেয়েছিল।
১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আবুল হারিছ চৌধুরী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হন আব্দুল কাহির চৌধুরী। এরপর থেকে আর কোনো বিএনপি নেতা মনোনয়ন পাননি।
২০০১ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। ২০০৮ সালে আবারও প্রার্থী হলেও তিনি পরাজিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপি জমিয়তকে ছেড়ে দিলে প্রার্থী হন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, যিনি আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, টানা কয়েকটি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী না দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক ক্ষতি হয়েছে। এবারও যদি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হবে।
বর্তমানে সিলেট-৫ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—মামুনুর রশীদ, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জাকির হোসেন, মাহবুবুল হক চৌধুরী, ইকবাল আহমদ তাপাদার, শরীফ আহমদ লস্কর, ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী এবং লুৎফা খানম চৌধুরী স্বপ্না।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইতিমধ্যেই নির্বাচনি তৎপরতা শুরু করেছেন জামায়াতের হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান, জমিয়তের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, খেলাফত মজলিসের মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদীসহ আরও কয়েকজন।
সিলেট, সিলেট-৫ আসন, বিএনপি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন