০৫ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার

জকিগঞ্জে ব্যবসায়ী নোমান হত্যা

৪৮ ঘণ্টা পরও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, মামলাও হয়নি

প্রকাশঃ ৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:৫৭ অপরাহ্ন


সিলেটের জকিগঞ্জে ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টা পরও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এ ঘটনায় শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।

অবশ্য পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী, সন্তান, শ্যালকসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে এখনো প্রকাশ করার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে গত বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী শায়লা স্মৃতি হাসপাতালের পেছনের ধানক্ষেত ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি মানিকপুর ইউনিয়নের পূর্ব মানিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন। 

নিহত নোমান উদ্দিন প্রায় ২০ বছর সৌদি আরব প্রবাসে ছিলেন। দুই বছর আগে দেশে ফিরে কালিগঞ্জ বাজারে মুদি ব্যবসা শুরু করেন। তার কোন ছেলে সন্তান নেই, দুই মেয়ে রয়েছে। জায়গা জমি সংক্রান্ত নানা বিরোধসহ পারিবারিক আছে বলে স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে নোমান উদ্দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে কালিগঞ্জ বাজারে দোকান খোলে সকাল ১১টার দিকে তিনি শায়লা স্মৃতি হাসপাতালে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ওইদিনই পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জকিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অতঃপর অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

বুধবার সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মেয়ে মুন্নি ও তান্নি, শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন, চাচাতো ভাই রিয়াজ উদ্দিন, হাসপাতালের কেয়ারটেকার তেরা মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 

এলাকার মানুষের অভিযোগ, ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিনকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবার সদস্য ও নিহতের শ্যালকের রহস্যজনক নানা আচরণে পুরো ঘটনাকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও মুক্তিপণ দাবি সব মিলিয়ে এ হত্যাকাÐের পেছনে রহস্য রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ‘ঘটনার পর থেকে নিহতের স্ত্রী, সন্তান, শ্যালক ও কয়েকজন নিকটাত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রকাশ করার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

ব্যবসায়ী নোমান হত্যা, আটক, মামলা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ