০৫ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার

আরিফুলের বিজয় মিছিলে রাজু হত্যা, ৭ বছরেও হয়নি বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ আগস্ট, ২০২৫ ২:৪৬ অপরাহ্ন


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট  ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল নিয়ে মেয়রের বাসভবনে যান সে রাতে।

কিন্তু আনন্দোচ্ছল সে রাত পরিণত হয় আকস্মিক বিষাদে, বিজয় মিছিলের মধ্যেই নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক ও সিলেট ল কলেজের শিক্ষার্থী ফয়জুল হক রাজুকে।
 
রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হলেও এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থকদের আশা ছিল সুষ্ঠু বিচারের। মামলা দায়ের হয় যথাযথভাবে, দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগপত্রও গঠন হয়েছে আদালতে। কিন্তু ৭ বছর পরেও আরো একটি ১১ আগস্ট ফিরে এলেও অধরা রয়ে গেছে রাজু হত্যার বিচার।

রাজুর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে। তিনি সিলেট নগরীর এক চাচার বাসায় থাকতেন। ২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনি প্রচারণায় রাজুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোট কাছাকাছি থাকায় বাতিল হওয়া দুইটি কেন্দ্রে ১১ আগস্ট পুনরায় ভোট হয়েছিল। ভোট গণনার পর ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় ঘোষণা এবং মিছিল চলাকালীন রাতের অন্ধকারে রাজুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, মিছিলের সময় দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজুকে ডেকে নিয়ে রাত ৯টার দিকে তার ওপর অতর্কিত হামলা হয় এবং প্রকাশ্যে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর পর ১৩ আগস্ট রাজুর চাচা দবির আলী সিলেট কোতোয়ালি থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
২০১৯ সালের ১২ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রকিব চৌধুরী, জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারসহ মোট ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বর্তমানে অভিযোগপত্রভুক্ত চার আসামি জামিনে আছেন। তবে প্রধান আসামি আবদুর রকিব চৌধুরী, সাহেদ আহমদ চৌধুরী, জাবেদ আহমদ, শহিদুল হক ও মুরশেদ আলম পলাতক। রকিব যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে দেখা গেছে। বাকিরাও বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজুর চাচা ও মামলার বাদি দবির আলী জানান, যুক্তরাজ্য থেকে রকিব মামলাটির বিচার দীর্ঘ করার নানা চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ বিচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবারসহ সকলের মধ্যে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‌‘আমরা আশা করছি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে রাজুর হত্যার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হবে যাতে ভবিষ্যতে এধরণের হত্যাকাণ্ড আর না হয়।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, আরিফুল হক চৌধুরী, হত্যাকাণ্ড, নির্বাচন, ছাত্রদল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ