১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:২৮ অপরাহ্ন
শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ছাতক উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ছাতক পৌরসভা। ১৯৯৭ সালে সুরমার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই পৌরসভাকে ২০০৮ সালে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে ভালো মানের সেবা পাচ্ছেন না পৌরবাসী। রয়েছে নাগরিক দুর্ভোগও।
যত্রতত্র ফেলা ময়লা-আবর্জনার স্তুপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না ময়লা ফেলার ডাস্টবিন। পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাবে নর্দমার উপরে ময়লা জমে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে এসব স্থান পার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট ও ড্রেনের বেহাল অবস্থাও দীর্ঘদিনের।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এসব চিত্র দেখা গেছে। পৌরসভা ‘প্রথম শ্রেণির’ হলেও, সেই মানের সেবা পাচ্ছে না পৌরবাসী-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ময়লা ফেলার জন্য নেই কোনো পর্যাপ্ত ডাস্টবিন। যেসব এলাকায় ডাস্টবিন আছে, সেগুলো অধিকাংশই ভাঙাচোরা ও আবর্জনায় ভরা। নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে এসব ডাস্টবিন উপচে পড়ছে। যার ফলে লোকজন বাধ্য হয়ে ডাস্টবিনের বাইরেই ময়লা ফেলছেন। নর্দমার উপর ময়লা পচে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। পথচারীরা নাকে কাপড় চেপে এসব স্থান পার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
একইভাবে পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও খানাখন্দে ভরা। কোথাও কোথাও ড্রেন থাকলেও সেগুলোর স্ল্যাভ নেই। অনেক পুরাতন ড্রেন ভেঙে গিয়ে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
পৌর শহরের বেশিরভাগ জায়গায় ময়লার কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় পথের ধারে স্তুপ করে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার মান রয়ে গেছে শোচনীয়। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই শহরটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
ছাতক পৌরসভার বাসিন্দা রিদওয়ান আহমেদ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যাতায়াতে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় ড্রেনের পানির উপর দিয়ে মসজিদে যাতায়াত করতে হয়।
পৌরসভার আরেক বাসিন্দা নাজমুল হাসান তারেক বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক মতো পরিষ্কার না করায় রাস্তার উপর দিয়ে ড্রেনের পানি যায়। বাসার বাহিরে বের হওয়া যায় না ময়লা আবর্জনার জন্য। নাক চেপে যাতায়াত করতে হয়।
ভুক্তভুগী ইকবাল হোসেন বলেন, ময়লা আবর্জনা ও জলাবদ্ধতার কারণে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভার অনেক উন্নয়মূলক কাজ চলমান রয়েছে। ময়লা-আবর্জনার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যার সমাধান হবে।
ছাতক পৌরসভা, দুর্ভোগ, নাগরিক সেবা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সেবা