হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু, আহত ৪
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৫ ৮:৩২ অপরাহ্ন
এবার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের অপসারণের দাবি যোগ করে ৬ দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ।
এরআগে, গতকাল রোববার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবরে ৫ দফা দাবি উল্লেখ করে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন তারা। ৫ দফা দাবির মধ্যে জেলা প্রশাসকের অপসারণের বিষয়টি ছিল না। এ নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও ধুম্রজাল তৈরি হয়।
অবশ্য ধর্মঘট ঘোষণার সময় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেছিলেন, 'জেলা প্রশাসকের ব্যাপারে আমাদের আপত্তি আছে। তিনি ইটভাটা বন্ধ করাসহ বিভিন্নভাবে সিলেটের মানুষের অসুবিধা করছেন, তাই তাঁর উপরও আমাদের আপত্তির বিষয়টি মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে রয়েছে।'
এদিকে, রোববার (৬ জুলাই) রাতে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাখান করে সিলেটে সকল ধরণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান আহমদ। রোববার রাত সাড়ে ১০টায় দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনালে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।
ধর্মঘট প্রত্যাখানের ঘোষণা দেওয়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা।
রোববার রাতে জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ জানান, আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া শ্রমিক কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে তারা অংশ নেবেন না। বরং তাদের মালিকানাধীন যানবাহন সড়কে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
লোকমান আহমদ দাবি করেন, চলমান কর্মবিরতি ও ধর্মঘট প্রকৃতপক্ষে মালিক ও শ্রমিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে আহ্বান করা হয়নি। বরং এটিকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা শ্রমিকদের ব্যবহার করে পাথর কোয়ারির আন্দোলন করছেন, তারা পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছেন। এটি সুস্পষ্টভাবে একটি দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা।
এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন পরিবহন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।
তিনি জানান, সিলেটের গণপরিবহন-পণ্যপরিবহন ও পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিকরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই বিভিন্নভাবে বঞ্চিত অবহেলিত। আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে সিলেটের কোটি মানুষের নেমে আসে অবর্ননীয় দুর্ভোগ। সিলেটের সব পাথর কোয়ারি ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে লাখ লাখ কর্মহীন মানুষের কারণে সিলেটে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে এ অঞ্চলে।
তিনি আরও জানান, রিজার্ভের বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করা হচ্ছে। তারা পাথর কোয়ারি খোলে দেওয়ার দাবিতে বারবার আন্দোলন সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পরেও তারা জুলুম নির্যাতন ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পাননি।
মইনুল ইসলাম জানান, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, তা মালিম শ্রমিককে ধ্বংসের নীল নকশা। একইভাবে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বেসরকারি প্রতিষ্টানকে দেওয়া আরেক হয়রানী ও ষড়যন্ত্র। তাছাড়া গাড়ি তল্লাশির নামের পুলিশ ট্রাক শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত হয়রানী করছে।
এসব কারণে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ- মাইক্রোবাস, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, সিএনজি, ইমা-লেগুনা ও পাথর সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেট জেলাজুড়ে পরিবহন কর্মবিরতি (ধর্মঘট) আহ্বান করেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান ময়নুল ইসলাম।
তাদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, সড়ক পরিবহণ আইন ২-১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০, ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ১৫ ও সিএনজি ইমা ও লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল, সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহণের উপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার, সিলেটের সব ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুতের মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর-বালুর ক্ষতিপূরণ, সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার এবং বালু পাথরসহ পণ্যবাহি গাড়ির চালকদের হয়রানি না করা।
এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে পরিবহনখাত সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
পরিবহন ধর্মঘট সিলেট, সিলেট, মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ