যাদুকাটায় তীর কেটে বালু লুট, ৬ জনকে আসামি করে মামলা
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৩ জুন, ২০২৫ ৫:২৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও অস্ত্রধারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত রাজমিস্ত্রি অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ জুন কুলঞ্জ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেন এবং ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আতিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২ জুন হাতিয়া গ্রামের গাধিয়ালা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একরার হোসেনের সমর্থকরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আবু সাঈদ (৩১) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় স্যানেটারি মিস্ত্রি ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় একটি বাড়ির পানির ট্যাংকিতে কাজ করছিলেন।
ঘটনার পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী রাতভর অভিযান চালায়। সোমবার সকাল ৯টায় অভিযান শেষ হয়। এ সময় চারজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী তাজ উদ্দিন, আমির উদ্দিন, ইরন মিয়া ও জমির মিয়াকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আবু সাঈদ নামের ওই ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
তল্লাশি চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে একটি একনলা বন্দুক, চারটি পাইপ গান, সাতটি রামদা, নয়টি বল্লম, ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, একটি তাজা গুলি ও একটি ফায়ারকৃত ব্ল্যাংক কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
আটক চারজনকে এবং উদ্ধার করা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ দিরাই গোলাগুলি, সেনাবাহিনী অভিযান দিরাই, হাতিয়া গ্রাম সংঘর্ষ, সুনামগঞ্জ স্যানেটারি মিস্ত্রি নিহত