০৪ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হত্যা: স্কুলব্যাগ ও জুতা উদ্ধার

মেয়ের শোকে পাগল প্রায় মা-বাবা; প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন

প্রতিনিধি, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১৫ জুন, ২০২৫ ৯:১১ অপরাহ্ন

ছবিঃ প্রতিকী ছবি

আমার মেয়ের কি দোষ ছিল? প্রাইভেট পড়িয়া বাড়িত ফিরতো পারলো না আমার মেয়ে, বলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নিহত স্কুলছাত্রী নাসিফা জান্নাত আনজুমের মা নাসিমা আক্তার লাকি। আর বাবা আব্দুল খালিক মেয়ের উদ্ধার হওয়া একটি জুতা আর স্কুল ব্যাগের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অপলক দৃষ্টিতে। সব কথা যেন হারিয়ে ফেলেছেন মেয়েকে হারিয়ে।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুলাউড়া সার্কেল আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) হাবিবুর রহমান, পুলিশ, পিবিআই লোকজন রোববার ১৫ জুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: ছয়ফুল ইসলাম ও নিহতের ফুফাতো ভাই মো. সোলেমান মিয়া জানান, শনিবার সন্ধ্যায় লাশ শনাক্তের পর পঞ্চায়েতের লোকজন নিহত আনজুমের হত্যাকারীদের শানক্ত এবং ঘটনাস্থলের সন্ধানে অভিযান চালান। একপর্যায়ে যেখানে আনজুমের লাশ পড়ে ছিলো তা থেকে এক'শ গজের ভেতরে ঝোপঝাঁড়ের মধ্যে একটি জুতা ও স্কুল ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি।

তারা আরও জানান, আব্দুল খালিক ও নাসিমা আক্তার লাকির ২ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে নিহত আনজুম ছিলো সবার বড়। স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিলো। বোরকা পরে ঘটনার দিন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন আনজুম।

রোববার (১৫ জুন) বিকেলে আনজুম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দ্রুত সনাক্তকরে শাস্তির আওতায় আনতে স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।

এদিকে শনিবার রাতে ও রোববার (১৫ জুন) দিনভর এলাকায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কেন বা কী কারণে আনজুমকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত? এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

স্থানীয় বাসিন্দা শাহরিয়ার ইসলাম ও ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ছয়ফুল ইসলাম জানান, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা কোন ভরসায় তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। গোটা দাউদপুর এলাকা যেন ঝোপঝাড়ের গ্রাম। বিশালাকারের বাড়িঘরে মানুষ বসতি কম থাকায় জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে ঘাতকরা। স্থানীয় লোকজন এসব জঙ্গল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া দরকার।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার জানান, উদ্ধারকালে মরদেহটি ছিল অর্ধগলিত। সুরতহালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন কিংবা ধর্ষণের কোন আলামত শনাক্ত করা যায়নি। শরীরে পানি দিলে চামড়া উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মৌলভীবাজারের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহত আনজুমের মা নাসিমা আক্তার লাকি বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীর একটি হত্যা মামলা (নং ১৩ তারিখ ১৫/০৬/২৫) দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের ২দিন পর নাসিফা জান্নাত আনজুম (১৫) নামক এক স্কুল ছাত্রীর লাশ ১৪ জুন শনিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আনজুম উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের মেয়ে এবং স্থানীয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে প্রাইভেট পড়তে স্কুলে যায় । প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। শনিবার বিকাল ৫ টার দিকে বাড়ির পাশে পারাইছড়া নামক পাহাড়ী ঝরণায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

নিহত, আনজুম হত্যা, কুলাউড়া

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ