নায়ক সালমান শাহকে হারানোর ২৯ বছর আজ
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র সালমান শাহ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও অভিনয়, ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তিন দশক পরও তা অটুট। আজ ৬ সেপ্টেম্বর, এই অমর নায়ককে হারানোর ২৯ বছর। নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সালমান শাহ এখনো তারুণ্য, রোমান্টিকতা ও নস্টালজিয়ার এক অবিচ্ছেদ্য নাম।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সালমান শাহ। মৃত্যুর এত বছর পরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের কাছে তার উপস্থিতি ততই নস্টালজিয়ার অংশ হয়ে উঠেছে।
সালমান শাহর শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে সিলেট শহরের দারিয়াপাড়ায় নানার বাড়িতে। বর্তমানে বাড়িটি ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত। মৃত্যুবার্ষিকী এলেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার ভক্তরা এই বাড়িতে ছুটে আসেন।
তার মামা কুমকুমের ভাষ্য, ছোটবেলার দুরন্ত সময়টা সালমান এই বাড়িতেই কাটিয়েছেন। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও টেলিভিশনে তার সিনেমা প্রচার হলে দর্শকের আগ্রহ কমেনি। এমনকি একই সময়ে নতুন কোনো সিনেমার সঙ্গে সালমান শাহর সিনেমা প্রচার হলে অনেক দর্শক এখনো তার সিনেমাটিই বেছে নেন।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে তাদের দাদার বাড়ি এবং দারিয়াপাড়ায় নানার বাড়ি।
অভিনয়ের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতিও তার আগ্রহ ছিল। স্কুলজীবনে বন্ধুদের কাছে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে প্রশিক্ষণ নেন। চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে নাটকেও অভিনয় করেন সালমান শাহ। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা এই সিনেমা তাকে রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
মৌসুমীর সঙ্গে ‘স্নেহ’ ও ‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। সালমান শাহ-শাবনূর জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শাবনূর ও মৌসুমী ছাড়াও শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।
অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক ও ফ্যাশনেও আলাদা একটি ধারা তৈরি করেছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের তরুণদের মধ্যে তার চুলের স্টাইল, পোশাক ও সাজসজ্জা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। ফলে শুধু চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবেই নয়, তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন ফ্যাশন আইকনও।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক নায়কের আগমন ঘটেছে। কিন্তু অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশনে তার তৈরি করা জনপ্রিয়তার জায়গা আজও কেউ পুরোপুরি দখল করতে পারেননি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছেই সালমান শাহ ছিলেন ধূমকেতুর মতো—হঠাৎ এসেছিলেন, দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চলে গেছেন।
তার অভিনীত সিনেমা ও গান এখনো দর্শকের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। নব্বইয়ের দশকের যারা তার সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিরও একটি অংশ।
তাই ২৯ বছর পরও সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ এতটুকু কমেনি। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা যেমন রয়ে গেছে, তেমনি তার ফিরে আসার অসম্ভব আকাঙ্ক্ষাও অনেক ভক্তের মনে আজও জেগে আছে। সময় পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহ রয়ে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অমর অধ্যায় হয়ে।
সালমান শাহ, চিত্রনায়ক, মৃত্যুবার্ষিকী, চলচ্চিত্র, সিলেটি অভিনেতা, তারকা