ওসমানী বিমানবন্দরে বিসিকের ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন
সিলেটজুড়ে
প্রকাশঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ দুপুরে সিলেট পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না।’
মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি গত দুইঘণ্টা সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ও তার অধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীও বৈঠকে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না।’
এসএমপি কমিশনার তাকে আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এসব সমস্যা নির্মূলে আইনের মধ্যে থেকে যা করা দরকার, তিনি তা করবেন।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানিয়ে মন্ত্রীর বলেন, ভারতের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব তারা এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে দিয়েছেন। তিনি এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে। সেগুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি এবং রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। এটি অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
তবে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়বে। রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনামের আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে এটি ঠিক সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রশ্নটি অর্থমন্ত্রীর কাছে করা উচিত। তিনি বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন আপনি আমার কাছে নিয়ে এসেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’
মুদ্রাস্ফীতির চাপ যাতে না পড়ে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই অর্থমন্ত্রী বিষয়টি প্রণয়ন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও অনলাইন জুয়া, মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি