জৈন্তাপুরে স্বামী ও সতীনের নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১১ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১৬ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দীর্ঘ ১৪ বছর আগের এক শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি চুনারুঘাট উপজেলার টেকারঘাট গ্রামের মৃত রেজ্জাক মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল কাদির মিয়া (৫০)। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি কাদির মিয়ার স্ত্রী বীনা সরকার বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন। এই বিরোধেরই জেরে ২০১২ সালের ৬ মার্চ দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার দুধপাতিল গ্রামে শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাশুড়ি হাজেরা খাতুন ওরফে মুল্লুক চানকে হত্যা করেন কাদির মিয়া।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মনির সরকার বাদী হয়ে কাদির মিয়াকে একমাত্র আসামি করে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ৮ মে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক। মামলা দায়েরের ১৪ বছর পর এসে এই রায় পেলেন বাদীপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের হত্যা মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষ সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
শাশুড়ি হত্যা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চুনারুঘাট, আব্দুল কাদির মিয়া, হাজেরা খাতুন, মনির সরকার