০৯ আগস্ট ২০২৬

যাপিতজীবন / স্বাস্থ্য

ওষুধ সংকটে মাধবপুরের চা বাগানের যক্ষ্মারোগীরা

প্রতিনিধি, মাধবপুর, হবিগঞ্জ

প্রকাশঃ ৯ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০৬ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানে যক্ষ্মার প্রকোপ বাড়ছে। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে প্রায় এক মাস ধরে যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘টু এফডিসি’ ট্যাবলেটের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসা চা শ্রমিক ও দরিদ্র রোগীদের একাধিকবার হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে যাতায়াতের খরচ, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা।


মাধবপুরের নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বৈকুণ্ঠপুর, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে যক্ষ্মার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে এসব এলাকায় ২৫ জন, জুনে ২৪ জন এবং জুলাইয়ে ২৬ জন নতুন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি আগস্টেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা রয়েছে।


চা বাগানের শ্রমিকদের অনেকেই স্বল্প আয়ের। তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে যক্ষ্মার চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিয়মিত ওষুধ সেবন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সরবরাহ সংকটে সেই ওষুধ পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


সুরমা চা বাগানের যক্ষ্মারোগী রবি মুন্ডা আগে মাসে একবার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পুরো মাসের ওষুধ নিয়ে যেতেন। এখন ওষুধের সংকটের কারণে তাকে মাসে তিন থেকে চারবার হাসপাতালে আসতে হচ্ছে।


রবি মুন্ডা বলেন, আগে একবার এসে মাসের ওষুধ নিয়ে যেতে পারতেন। এখন বারবার হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের খরচ বাড়ছে, পাশাপাশি কাজের সময়ও নষ্ট হচ্ছে।


একই চা বাগানের রোগী লাল মোহন বাক্তি বলেন, যক্ষ্মার ওষুধ নিয়মিত না খেলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি জীবাণু ওষুধ–প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও রয়েছে।


তেলিয়াপাড়া হীড বাংলাদেশ যক্ষ্মা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী রাজু গোয়ালা বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের বসবাসের পরিবেশ যক্ষ্মা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে এসব এলাকায় রোগটির বিস্তার বেশি দেখা যায়।


তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে স্থানীয়ভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো রোগটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।


মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নার ও তেলিয়াপাড়া হীড কর্নারে বর্তমানে নিবন্ধিত যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০। এসব কেন্দ্রে বিনা মূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ ও ওষুধ দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী কফ পরীক্ষা করাতে আসেন। তাদের একটি অংশের শরীরে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত হয়।


রোগের ধরন অনুযায়ী একজন রোগীকে প্রতিদিন দুই থেকে চারটি ‘টু এফডিসি’ ট্যাবলেট সেবন করতে হয়। কিন্তু সরবরাহে ঘাটতি থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না।


মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর ওষুধের সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’


তিনি জানান, দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণ হবে বলে তারা আশা করছেন।


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

মাধবপুরে যক্ষ্মা, হবিগঞ্জে যক্ষ্মা, চা বাগানে যক্ষ্মা, চা শ্রমিক, যক্ষ্মার ওষুধ সংকট, টু এফডিসি, ডটস কর্নার, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুরমা চা বাগান, যক্ষ্মা রোগী, হবিগঞ্জের চা বাগান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ