সিলেটের টিলা ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় এবার জৈন্তাপুরে নতুন অভিযোগ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫৩ অপরাহ্ন
সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রবাসী পরিবারের বসতবাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে টিলা কেটে ফেলায় বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে টিলা কাটার সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
ঘটনাটি জৈন্তাপুর উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (দলইপাড়া) গ্রামের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ফারুক আহমদ, কামাল আহমদ ও নাজিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, টিলা কেটে নেওয়ায় বসতভিটার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে এতে এলাকার পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করে।
জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে টিলা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। টিলা কাটার আলামত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে আবার টিলা কাটার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী পরিবারের সদস্য সেলিম আহমদ বলেন, তারা দুই ভাই প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে তাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে তাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।
সেলিম আহমদ বলেন, ‘আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। বাড়িতে শুধু আমাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে টিলা খেকোরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী হিসেবে তারা উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর থানার পুলিশের সহযোগিতা চান। বিষয়টি নিয়ে তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
জৈন্তাপুরের এই অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় ও টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ সংক্রান্ত আইন থাকলেও নানা কৌশলে টিলা কাটার অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো দিনের বেলায় যন্ত্রপাতি আড়াল করে টিলার মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ, জমি সমতল করা কিংবা মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব টিলা কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি টিলাধসের ঝুঁকিও বাড়ছে। গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ সময়ে টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ঘাটতির কারণে টিলা ধ্বংস বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, টিলা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি, অবৈধভাবে টিলা কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
জৈন্তাপুরের শ্যামপুরের ঘটনাতেও প্রশাসন টিলা কাটার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন অভিযোগকারী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলার সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সিলেটের টিলা, টিলা কাটা, জৈন্তাপুর, জৈন্তাপুরে টিলা কাটা, ফতেপুর ইউনিয়ন, শ্যামপুর, দলইপাড়া, প্রবাসীর বাড়ি, টিলা ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন