বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট
সিলেটজুড়ে
প্রকাশঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে সাধারণ এসি বাস হিসেবে নিবন্ধন ও ফিটনেস নেওয়ার পর কাঠামো পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সিলেট কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে স্লিপিং বাসের আলাদা কোনো অনুমোদন নেই। ফলে অনুমোদন ছাড়াই কাঠামো পরিবর্তন করে চলাচল করা এসব বাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ছিল ডাবল ডেকার স্লিপার বাস। নিহত নয়জনই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি দ্রুতগতিতে একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় ইউনিকের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের ধানখেতে পড়ে যায়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক বাসটির পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। এতে দুর্ঘটনার সময় দুই বাসের অবস্থান স্পষ্ট দেখা গেছে।
ওসি বলেন, বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। পরে ইউনিকের বাসটি সড়কের পাশের ধানখেতে চলে যায়। দুর্ঘটনায় নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেঙ্গল পরিবহনের পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে প্যারাডাইস পরিবহনের স্লিপার বাসও চলাচল করছে। তবে এসব বাস কীভাবে ও কোন ধরনের অনুমোদনে চলছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
বিআরটিএ সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে স্লিপিং বাসের কোনো অনুমোদন নেই। মালিকপক্ষ প্রথমে সাধারণ এসি বাস হিসেবে নিবন্ধন ও ফিটনেস নেয়। পরে বাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে সেটিকে স্লিপার বাসে রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবর্তিত কাঠামোর জন্য নতুন করে অনুমোদন বা ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় না।
রফিকুল ইসলাম বলেন, গাড়ির মূল নকশায় পরিবর্তন আনা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিনি জানান, বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের বাসের অনুমোদন সিলেট থেকে নেওয়া হয়নি। সম্ভবত বিআরটিএর ঢাকা কার্যালয় থেকে নেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক পলাশ বলেন, সড়কে চলাচলকারী স্লিপার বাসগুলোর চেসিস ও বডি সাধারণ বাসের। পরে সেগুলোর কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। তার মতে, জরুরি বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসব বাস ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
তবে স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন।
সিলেট হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, শুক্রবার ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দেওয়া বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি এসি স্লিপার বাস ছিল। মহাসড়কে অনুমোদনহীন স্লিপার বাস চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসি স্লিপার বাস অবৈধ এমন কোনো তথ্য বা নির্দেশনা বিআরটিএ তাদের দেয়নি। এ ধরনের কোনো চিঠি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব স্লিপার বাস সড়কে চলাচল করছে। তার দাবি, বিআরটিএ ও পুলিশের সামনে দিয়েই এসব বাস চলাচল করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
শুক্রবারের দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকেই দায়ী করেন ময়নুল হক। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেই এর কারণ স্পষ্ট হয়েছে।
একদিকে বিআরটিএ বলছে, দেশে স্লিপিং বাসের অনুমোদন নেই এবং কাঠামো পরিবর্তনের পর নতুন করে ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় না। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, স্লিপার বাস অবৈধএমন কোনো নির্দেশনা তারা পায়নি। ফলে অনুমোদন ও ফিটনেসের বিষয়টি নিয়ে দুই সংস্থার বক্তব্যে কার্যত একটি ফাঁকই সামনে এসেছে।
ওসমানীনগরের নয়জনের মৃত্যুর পর সেই ফাঁকই এখন আরও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সাধারণ বাস হিসেবে অনুমোদন নেওয়া একটি বাসের কাঠামো পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বানানোর পর সেটি মহাসড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তা যাচাই করছে কে?
এ বিষয়ে বেঙ্গল পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, স্লিপার বাস, ডাবল ডেকার বাস, বিআরটিএ, এসি বাস, বাসের ফিটনেস, বাসের অনুমোদন, সড়ক নিরাপত্তা, বেঙ্গল পরিবহন, ইউনিক পরিবহন, ওসমানীনগর বাস দুর্ঘটনা, সিলেট বাস দুর্ঘটনা