০৮ আগস্ট ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি, ফাঁস হলো ভয়ংকর নথি

ভয়েস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১:১১ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। মাঠের লড়াই, গ্যালারির উন্মাদনা আর শিরোপা জয়ের আনন্দে টুর্নামেন্টটি স্মরণীয় হয়ে আছে। তবে সেই উৎসবের আড়ালে ছিল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও। বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারি প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পুলিশ বাহিনী নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রতিদিন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করে। এসব গোপন নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। সেই প্রতিবেদনের তথ্যেই বিশ্বকাপের সময় তারকা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে ও টুর্নামেন্ট চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার নিরাপত্তা ঘিরে একাধিক ঘটনায় সতর্ক হতে হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।


আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করেন এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, তিনি ও তার দুই সহযোগী হাতে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো। কথিত ওই হামলাকারীর বিশেষ লক্ষ্য ছিলেন মেসি।


এর আগে আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচ ঘিরেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজের শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেন। তার হুমকিতে মেসিকেও লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়।


ম্যাচ চলাকালে পুলিশ সদর দপ্তরেও ফোন করে স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখার দাবি করা হয়। এরপর বিস্ফোরক শনাক্তকারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।


পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও বিশ্বকাপজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও থাকার জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। দুই দিন পর হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।


কানাডার টরন্টোতেও রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। তিনি রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটকে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তার উদ্দেশ্য ছিল রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তোলা।


মায়ামিতেও রোনালদোকে ঘিরে ধরার চেষ্টা হয়েছিল। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ চলাকালে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন।


শুধু নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা নয়, মাঠের পারফরম্যান্স ও বিভিন্ন ঘটনার জেরেও খেলোয়াড়দের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।


প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে বাদানুবাদের পর ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে তার প্রতিকৃতি পোড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর আতলেতিকো মাদ্রিদের নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।


পেনাল্টি মিস করার পর কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজকে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও দেখা যায়নি। অন্যদিকে স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার ঘটনায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও হত্যার হুমকি পেয়েছেন।


বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মাইওং-বো এবং দলের খেলোয়াড়দের একযোগে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাদের বিমানবন্দর পর্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়া হয়।


তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচ পরিচালনার পর তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তার বেশির ভাগই মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে এসেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ওই ম্যাচের ভিএআর কর্মকর্তা উইলি দেলাজোদও একই ধরনের হুমকি পেয়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ফ্রান্সে লেতেক্সিয়ের ও দেলাজোদের বাড়ি এবং তাদের স্বজনদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


ফলে বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের উত্তেজনা ও উৎসবের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে। গ্যালারির আলো ও মাঠের সাফল্যের আড়ালে তারকা খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের যে ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে, তা বিশ্বকাপের নিরাপত্তাচিত্রের একটি অস্বস্তিকর দিক হয়ে থাকল।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপ নিরাপত্তা, ফুটবল বিশ্বকাপ, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের, ফুটবলারদের হুমকি, প্রাণনাশের হুমকি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ