যাদুকাটায় তীর কেটে বালু লুট, ৬ জনকে আসামি করে মামলা
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৫ জুন, ২০২৫ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে বিকাশের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎ করা দুই লাখ ২১ হাজার টাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) খলিলুর রহমান আক্তার (৩২) আর্থিক সংকটে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এতে তিনি সহায়তা নেন তাঁর সহকর্মী সাইদুল ইসলাম (৩৫)-এর, যিনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিরাজনগর এলাকার বাসিন্দা।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আশিদ্রোন-ভোজপুর সড়কের তিতপুর এলাকার বিলাসেরপাড় ব্রিজে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে।
খলিলুর রহমান তখন পুলিশকে জানান, তিনি স্থানীয় আইয়ুব মার্কেট পরিদর্শন শেষে মোটরসাইকেলে ভোজপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তিতপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করে এবং ব্যাগে থাকা আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তবে পুলিশের তদন্তে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর পুলিশ গভীরভাবে অনুসন্ধান শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য এটি ছিল একটি সাজানো ছিনতাই।
তদন্তে উঠে আসে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খলিলুর নিজেই মোটরসাইকেল থামান এবং সাইদুল তাঁকে হালকা আঘাত করে ব্যাগে থাকা টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে খলিলুরকে তার বাড়ি থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুরো ঘটনা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সাইদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করা দুই লাখ ২১ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
জেলা পুলিশ জানায়, বিকাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও খলিলুর নিজের পদের অপব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তবে পুলিশের তদন্তে দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে সন্দেহের চোখে দেখছিলাম। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আমরা সত্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। কোনো ধরনের অপরাধীই রেহাই পাবে না।’
শ্রীমঙ্গল ছিনতাই নাটক, বিকাশ প্রতারণা, বিকাশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার